আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে পরিমার্জিত এক শান্তি–ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দুই দেশ যৌথ বিবৃতিতে জানায়, আগের খসড়া প্রস্তাবে যেসব শঙ্কা ছিল, সেগুলো সংশোধন করে তারা একটি পরিমার্জিত শান্তি–প্রস্তাব তৈরি করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পরিমার্জিত প্রস্তাবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—রাশিয়ার অব্যাহত হুমকির প্রেক্ষাপটে—সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে দুই পক্ষই বৃহস্পতিবারের সময়সীমার আগে ‘জোরদার আলোচনা’ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। এদিকে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও রোববার রাতেই ওয়াশিংটন ফিরে গেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। রোববার তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য ইউক্রেন ‘শূন্য কৃতজ্ঞতা’ দেখিয়েছে। পরবর্তীতে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা ট্রাম্পের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিবৃতি দেন।
ট্রাম্প পূর্বে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে শান্তি–প্রস্তাব গ্রহণের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তবে রুবিওর ভাষায়—সময়সীমাটি ‘চূড়ান্ত নাও হতে পারে’।
সূত্র জানায়, আলোচনার সংবেদনশীল অংশগুলো নিয়ে কথা বলতে জেলেনস্কি এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন।
ওই প্রস্তাবটি মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিস্মিত করে। জানা যায়, গত অক্টোবরে মায়ামিতে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভকে নিয়ে এক বৈঠকে খসড়াটি তৈরি হয়।
ইউরোপীয়দের পাল্টা প্রস্তাব
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এটিকে রাশিয়ার ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে সমালোচনা করলেও রুবিওর দাবি—এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পরিকল্পনা, যেখানে যুদ্ধরত দুই পক্ষের মতামত বিবেচনা করা হয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তারা ওই খসড়া পরিকল্পনা তৈরিতে অংশ নেয়নি। রোববার তারা নিজেদের একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রকাশ করে, যেখানে ভূখণ্ডগত ছাড়ের চাপ কিছুটা কমানো হয় এবং রাশিয়ার হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে ন্যাটো-ধাঁচের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।
এইসময় মাঠে রাশিয়া কিছু অঞ্চলে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ছে। প্রতিদিনই লক্ষাধিক মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি, তাপ ও বিদ্যুৎবিহীন কাটাচ্ছেন।
দেশের অভ্যন্তরেও জেলেনস্কি নতুন চাপের মুখে। দুর্নীতির একটি বড় কেলেঙ্কারিতে কয়েক মন্ত্রী জড়িত থাকায় জনরোষ বাড়ছে, যা যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রের অর্থায়ন সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন উৎসাহ পেয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল খাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায়, যা যুদ্ধ অর্থায়নের মুখ্য উৎস। পাশাপাশি ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
কিউএনবি/খোরশেদ/২৪ নভেম্বর ২০২৫,/বিকাল ৫:০৫