শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে যে বার্তা দিলো পাকিস্তান

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এতে উভয় পক্ষের অনেক সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।

সংঘাতের মধ্যে তোরখাম ও স্পিন বলদাকসহ পাঁচটি বড় সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। এতে বাণিজ্য ও রফতানি হওয়ায় আফগান ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 
 
সংঘাতের অবসানে দফায় দফায় শান্তি আলোচনায় বসে কাবুল ও ইসলামাবাদ। গত সপ্তাহেও কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় তৃতীয় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বরাবরের মতো কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় আলোচনা। এতে আবারও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 
 
এমন পরিস্থিতিতে নিজ দেশের আমদানিকারকদের প্রতিবেশী দেশটি থেকে ওষুধ আমদানি না করার নির্দেশ দিয়েছে তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার। সেই সঙ্গে দ্রুত বিকল্প উৎস দেশ খুঁজে বের করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
 
আফগানিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার বুধবার (১২ নভেম্বর) কাবুলে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জাতীয় বাণিজ্য সুরক্ষা নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন তিনি।
 
বৈঠকে উপপ্রধানমন্ত্রী ওষুধ আমদানিকারকদের আগামী তিন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সকল লেনদের চুকিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
 
তার কথায়, ‘সমস্ত আফগান ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিদের পাকিস্তানের পরিবর্তে বিকল্প বাণিজ্য রুটের দিকে ঝুঁকতে হবে। এই রুটগুলো কেবল আমাদের ব্যবসায়ীদেরই ক্ষতি করেনি বরং বাজার ও সাধারণ জনগণের জন্যও অসুবিধার কারণ হয়েছে। আমি সকল ব্যবসায়ীদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমদানি ও রফতানির জন্য বিকল্প অপশনগুলো বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করছি।’
 
তালেবান সরকারের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে পাক পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই প্রতিশ্রুতি আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে না।
 
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা আফগানিস্তানকে বেশ কিছু ছাড় দিয়েছি। কিন্তু আফগান তালেবান সরকার এই ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর প্রতিদান দেয়নি। তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় এবং সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে চলেছে।’
 
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাণিজ্য ও অর্থনীতির চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও পরিবহন কেবল তখনই সম্ভব, যখন আফগান তালেবান সরকার তার ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত পাকিস্তান বিরোধী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট পদক্ষেপ নেবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৫ নভেম্বর ২০২৫,/বিকাল ৫:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit