ডেস্ক নিউজ : মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী
সেই ঘুষ খেতে খেতে একদরনের নেশাগ্রস্ত ঘুষখোর হয়ে যায়। সেই দুনিয়াতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও আখিরাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের ভিতরে যদি পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতো তাহলে তারা এই সব অন্যায় কাজ করতো না। যাদের ভিতরে পরিশুদ্ধতা নিয়ত আছে তারা দুনিয়াতেও সফল এবং আখিরাতেও সফল। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, লোকেরা হাশরে নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে। (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৯)
নামাজ রোজা হজ যাকাতসহ যত ধরনের ইবাদাত আছে, এই সব ইবাদাত কবুলের জন্য পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে। যদি পরিশুদ্ধতা নিয়ত না থাকে তাহলে এই সব ইবাদাত কবুল হবে না। আল্লাহ বলেন,বল (আমার এই কথা) হে আমার মু’মিন বান্দারা! তোমরা তোমাদের রাব্বাকে ভয় কর। যারা এই দুনিয়ায় কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ। প্রশস্ত আল্লাহর পৃথিবী, ধৈর্যশীলদেরকে অপরিমিত পুরষ্কার দেয়া হবে। বল আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর আনুগত্য একনিষ্ঠ হয়ে তার ইবাদাত করতে। আর আদিষ্ট হয়েছি, আমি যেন আত্মা-সমর্পনকারীদের অগ্রণী হই। (সূরা আয্ যুমার, আয়াত: ১০,১১,১২)
যারা দুনিয়াতে পরিশুদ্ধতা ইবাদাত করে তাদের জন্য পরকালে রয়েছে পুরষ্কার। যারা দুনিয়াতে কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে মঙ্গল। দুনিয়াতে পরিশুদ্ধতা নিয়ত করে ইবাদাত করলে ইহজগত ও পরজগত উভয় জায়গায়ই কল্যাণ রয়েছে। ইবাদাত কবুলের জন্য অবশ্য আল্লাহর আনুগত্যে ও পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে। তাহলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও তাকওয়া ভিরু হওয়া যাবে।
যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) শুনিয়ে দিবেন। আর যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) দেখিয়ে দিবেন। (সহী বুখারী, হাদিস নং ৬৪৯৯) দান খয়রাত করা হলো ইবাদাত, আর এই ইবাদাত কবুলের জন্য অবশ্য পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে।
আল্লাহকে দেখানো ও তাকওয়া অর্জনের জন্য যদি দান খয়রাত করা হয় তাহলে অবশ্য এই ইবাদাত কবুল হবে। দানকারীদের নিয়ত যদি আল্লাহ ও রাসূলের জন্য হয় তাহলে আখিরাতে রয়েছে পুরষ্কার। আল্লাহ বলেন: যারা রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের পুরষ্কার রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবেনা। (সূরা আল বাকারা, আয়াত: ২৭৪)
কিউএনবি/আয়শা/১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, /বিকাল ৫:০৫