আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বোকা ট্রাম্পের জোর ফুরিয়ে গেছে!’ কিংবা ‘ট্রাম্প আবারও তার ফাঁকা বুলি থেকে পিছিয়ে এসেছেন।’— ঠিক এভাবেই রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহাস করেছে ইরানের গণমাধ্যমগুলো। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে বাগ্যুদ্ধে পরিস্থিতি এখন চরম নাটকীয় রূপ নিয়েছে।
ওমানের রাজধানী মাস্কাটের অদূরে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির জলসীমায় নোঙর করে আছে অসংখ্য বাণিজ্যিক জাহাজ। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ভিত্তি তৈরি হয়েছে; যার অন্যতম শর্ত হলো সব জাহাজের জন্য প্রণালিটি দ্রুত উন্মুক্ত করা। তিনি বারবার চ্যানেলটির ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার জোর দাবি জানালেও, ইরানের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। তাই প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া ইরান।
প্রযুক্তিগতভাবে এই প্রণালিতে ইরান ও ওমান উভয়েরই ‘এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন’ বা ইইজেড রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এই জোনের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের ‘সার্বভৌম অধিকার’ থাকলেও তা জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা দেয় না।
‘সমুদ্র আইন বিষয়ক জাতিসংঘ সনদ’ (আনক্লস) অনুযায়ী, উপকূলীয় বা স্থলবেষ্টিত যেকোনো দেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় জাহাজের স্বাধীন ও ‘নির্দোষ যাতায়াতের’ অধিকার রয়েছে। সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া উপকূলীয় রাষ্ট্র এতে বাধা দিতে পারবে না। তবে যাতায়াতটি ‘নির্দোষ’ না হলে তা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিধানও আনক্লস-এ স্পষ্ট করা আছে।
কিউএনবি/অনিমা/০২ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ৯:৫০