আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত শনিবার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির পূর্বঘোষিত এক জরুরি বৈঠকে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ট্রাম্পের গাজা দখল পরিকল্পনা সামনে আসার পরই গত মাসে এই জরুরি বৈঠকের ঘোষণা দেয় ওআইসি। বৈঠকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে আঞ্চলিক উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, একই দিনে ইউরোপের চারটি দেশ ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য আরব লীগের এ পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে। চারটি দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এ পরিকল্পনা গাজার পুনর্গঠনে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান দিচ্ছে। এটি কার্যকর হলে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের জীবনমানের উন্নতি হবে।
ইসরাইলের ১৫ মাসের সামরিক আগ্রাসনে সাজানো-গোছানো গাজা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপ। গত মাসে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে এক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা। নিজেদের মাতৃভূমিকে নতুন করে গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
কিন্তু ফিলিস্তিনিদের সেই স্বপ্নপূরণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অধিকৃত গাজাকে এবার পুরোপুরি দখলের পায়তারা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার কর্মকর্তারা বলছেন, গাজা দখল করে পুনর্নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। আর গাজাবাসীকে জর্ডান ও মিশরের মতো দেশগুলোতে পুনর্বাসন করা হবে।
গাজা দখল ও বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার মার্কিন ও ইসরাইলি পরিকল্পনার বিপরীতে গাজার পুনর্গঠন নিয়ে গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) মিশরের কায়রোতে আরব লীগের জরুরি সম্মেলনে বিকল্প প্রস্তাব দেয় মিশর। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এর তিনদিন পর জেদ্দায় ৫৭ সদস্যের ওআইসির বৈঠকে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।
এরপর সংস্থাটির এক বিবৃতে বলা হয়, ওআইসি গাজার দ্রুত পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক তহবিল সংস্থাগুলোকে দ্রুত এ পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নিতে কাতারের রাজধানী দোহায় একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। হামাসের শীর্ষ নেতা মাহমুদ মারদাউয়ি জানিয়েছেন, তারা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়। হামাসের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আগের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে যেতে চায় সংগঠনটি।
ওআইসির গাজা পুনর্গঠন প্রস্তাব সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মিশরীয় এই কূটনীতিক আরও বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, রাশিয়া, চীন ও আন্তর্জাতিক অন্যান্য পক্ষগুলোর কাছ থেকে সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে একে একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনায় পরিনত করা। সেই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
কিউএনবি/অনিমা/০৯ মার্চ ২০২৫,/রাত ৯:৫০