বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলিদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১০৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্বাধীনতাকামী হামাসের আল আকসা তুফান অভিযানের পর ৩০ লাখ ইহুদিবাদী ইসরায়েলি মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সামরিক অভিযান ‘আল আকসা তুফান’ অভিযান ছিল ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাকাণ্ড, আল আকসা মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করা এবং ফিলিস্তিনি ভূমি বছরের পর বছর ধরে দখল করে রাখার ক্ষেত্রে তেল আবিব সরকারের ধারাবাহিক অপরাধযজ্ঞের পাল্টা প্রতিক্রিয়া।

ঐতিহাসিক এই অভিযানটি গাজা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হয়েছিল এবং প্রায় দেড় বছর ধরে অব্যাহত ছিল। যার ফলে বিপুল সংখ্যক ইহুদিবাদী নিহত, আহত বা বন্দি হয়েছিল। ইসরায়েলের গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরাইল’ এই অভিযানকে ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং শাসক গোষ্ঠীর জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। ‘জেরুজালেম পোস্ট’ আজ এই খবর জানিয়েছে।

‘আল আকসা তুফান’ অভিযানের পর ইসরায়েলি সরকার মার্কিন প্রশাসনের সহায়তায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার জনগণের বিরুদ্ধে এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু করে।

এক বছর তিন মাস ধরে পাশবিক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পর গণহত্যাকারী ইসরায়েলি সরকার স্থল অভিযানের মাধ্যমে বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্ত করতে এবং গাজায় তুমূল প্রতিরোধকামীদের নির্মূল করার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর গত ১৫ জানুয়ারি ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করতে সক্ষম হয়। চুক্তিটি ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’র উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়া জানিয়েছে, ইসরায়েলি ক্যাবিনেট অফিসের পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ‘আল আকসা তুফান’ অভিযানের পর অনেক ইহুদিবাদী বিপজ্জনক স্বাস্থ্য ও মানসিক সংকটে ভুগছেন। কারণ, অফিসের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৮ শতাংশ বলেছেন আল আকসা অভিযানের ঘটনায় তারা চরম উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এই খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, গাজা যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদিবাদী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন।

এর আগে এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল, প্রধান সমস্যাটি কেবল আহতের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বরং ইসরায়েলি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের অক্ষমতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এর ফলে যুদ্ধের সৃষ্ট মানসিক জটিলতায় ভুগছেন এমন নয় লাখ মানুষ দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে পরিষেবার জন্য আবেদন করেননি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এই অপেক্ষা সাড়ে ৬ মাস পর্যন্ত পৌঁছায়।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার পর্যবেক্ষকের প্রতিবেদনের আরেকটি অংশে ইসরাইলি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভা মানসিক স্বাস্থ্য সংকট যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং গাজার আশেপাশের বসতি থেকে স্থানান্তরিত হওয়া ১১ শতাংশ ব্যক্তি ছাড়া যুদ্ধের পরের ছয় মাসে কেউ মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পায়নি, যদিও তাদের এই ধরনের পরিষেবার জরুরি প্রয়োজন ছিল।

অর্থনৈতিক পরিণতি
মানসিক সংকট কেবল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকেই ছাড়িয়ে যায়নি বরং ইসরায়েলি অর্থনীতিকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং আক্রান্তদের কাজ ও উৎপাদন ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে। এই সংকট ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার ওপর মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি চাপিয়ে দিতে পারে এবং সামাজিক নিরাপত্তা রাজস্ব এবং অন্যান্য সমাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ড চরমভাবে ব্যাহত হবে। -বাসস

কিউএনবি/অনিমা/১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫,/বিকাল ৩:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit