শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চেলসির কিংবদন্তি গোলদাতা ববি ট্যাম্বলিং আর নেই সাড়ে তিন বছর পর পরিবারকে ফিরিয়ে দিল ফাতেমার মৃত্যুর খবর টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ১ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করুন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি পেলেন ৫ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ আগস্টের মধ্যেই স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ করতে চায় সরকার: প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

লালমনিরহাটে তীব্র শীতে জবুথবু জনজীবন, হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।
  • Update Time : শনিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৫২ Time View

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার দাপট বেড়েছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। গত পাঁচদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না জেলায়। এতে ভোগান্তি আর দুর্ভোগে পড়ছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। উত্তরাঞ্চলে এই অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রার উন্নতি হলেও ফের মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসও আবহাওয়া অফিস।

শনিবার (২৫ জানুয়ারী)  সকাল ৬টায় লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কয়েকদিন ধরে উত্তরাঞ্চলে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি, নীলফামারির সৈয়দপুরে ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি, রংপুরে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি, নীলফামারী ডিমলায় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘ঘন কুয়াশা ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে উত্তরের জেলাগুলোতে মধ্যরাত থেকে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা বেড়েছে। এছাড়া, দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। ’জানুয়ারির শেষ দিকে আরও শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তীব্র শীতে বেশি ভোগান্তি আর দুর্ভোগে পড়ছেন শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। ঘন কুয়াশা এবং হিমেল বাতাসে জীবনযাত্রা প্রায় অচল করে দিয়েছে। বেশিরভাগ গ্রাম-চরাঞ্চলের অবস্থা তীব্র শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লালমনিরহাট পৌর শহরের মিশনমোড়ে ব্যাটারিচালিত রিক্সাচালক রহিম মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গত ৫দিন ধরে লালমনিরহাটে খুবই ঠান্ডা। তাছাড়া ঘনকুয়াশা থাকার কারণে মানুষজন বাড়ির বাহিরে বের কম হচ্ছে। এতে যাত্রী সংকটে পড়তে হচ্ছে। সাইদুল ইসলাম নামের এক স্কুল শিক্ষকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সবার। বিশেষ করে তীব্র শীতে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উপর গত কয়েকদিনের শীত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ঘনকুয়াশা আছন্ন থাকায় অনেক সময় দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ১০বেড শিশু রোগীর জন্য বরাদ্দ হলেও বর্তমানে ৩৯ জন শিশু রোগী ঠান্ডা জনিত রোগে ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিনই ডায়রিয়া, নিউমেনিয়াসহ শ্বাসকষ্ট রোগে রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন, চিকিসা শেষে চলে যাচ্ছেন। ভর্তি হওয়া অধিকাংশরা ডায়রিয়া, নিউমেনিয়ায় আক্রান্ত।  অনেকে বেড না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া বয়োবৃদ্ধ রোগীর চাপও তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

লালমনিরহাটের বড়বাড়ি থেকে সেবা নিতে আসা মমিন মিয়া জানান, গতকাল ৭বছর বয়সী ছেলে রিফাত হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পরে। পরে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে শিশু কিছুটা সুস্থ তবে রোগীর চাপ থাকায় বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিসা নিতে হচ্ছে। পৌরসভার বিডিআর গেট এলাকার সজিব ভূইয়া তার মেয়েকে গত চারদিন পূর্বে হাসপাতালে ডায়রিয়া জনিত কারণে ভর্তি করিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে শিশু সুস্থ হলেও ঠান্ডা না কমায় শংকা কাটছে না তার। 

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আব্দুল মোকাদ্দেম বলেন, শীতের সময়টাতে রোগব্যাধী বাড়ছে। কয়েকদিন ধরে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। বর্তমানে ১০ বেডের বিপরীতে ২৯ শিশু রোগী ডায়রিয়া, নিউমেনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগে ভর্তি রয়েছে। বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ বেড়েছে। শীতের সময় ঠান্ডা জনিত রোগ থেকে বাঁচতে এবং সুস্থ থাকতে গরম পোশাক পরিধান ও প্রয়োজন ব্যতিত বাহিরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক। 

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, লালমনিরহাটের শীতার্তদের জন্য ৩২ হাজার কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত কম্বলের ৯০% এরই মধ্যে তালিকা করে বিতরণ করা হয়েছে। শীতের প্রকোপ বাড়ায় এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৫ জানুয়ারী ২০২৫,/সন্ধ্যা ৬:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit