শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

চৌগাছায় বিউটি পার্লারের আড়ালে নারীদের প্রতারণার ফাঁদ সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ,অনেকে লজ্জায় করছেন আত্মহত্যা

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) ।
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১১৭ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় বিউটি পার্লারের আড়ালে নারীরা চালাচ্ছে দেহ ব্যবসা। নারীরা খুব সহজেই একে অপরের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে। প্রতারণার মাত্রা এখন এতটাই প্রবল যে, এটা বড় ধরনের অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে। দেহ ব্যবসায়ী নারীদের ফাঁদে পড়ে মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। অনেকে এ নারীদের ফাঁদে ফেঁসে সমাজ পরিবার ও সম্মানের কথা চিন্তা করে আত্মহত্যা করছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি চৌগাছার একটি হাইস্কুলের জনৈক ক্রীড়া শিক্ষক এ নারী চক্রের ফাঁদে পড়েন। তিনি তাদের চাহিদা মত ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে এ চক্রের সন্ত্রাসীরা ঐ শিক্ষকের অর্ধউলঙ্গ এক নারীর সাথে জোরপূর্বক ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। যে ভিডিওটি বর্তমানে টপঅফদ্যা চৌগাছা। অতি সম্প্রতি এ নারী চক্রের সদস্যেদের ফাঁদে পড়ে চাকরি হারাতে বসেছেন চৌগাছা থানার সাবেক ওসি পায়েল হোসেন। এ নারী চক্রের সদস্যেদের ফাঁদে পড়ে অতিসম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন উপজেলার এক ধনী ব্যক্তি।

এ দেহ ব্যবসায়ী নারী চক্রের বেশীর ভাগ সদস্যরা তাদের কাজের সুবিধার্থে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিউটি পার্লারের সাইনবোর্ড টানিয়ে তার আড়ালে প্রতারণা করে চলেছে। চৌগাছার এক কলেজের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, এ চক্রের এক সদস্য আমাকে টার্গেট করে দীর্ঘদিন আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। আমি বুঝতে পেরে নিজেকে সেভ করেছি। তিনি বলেন এদের প্রতিহত করতে হবে যে কোনো উপায়ে। না হলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। দ্রুত সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এই প্রতারণার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এর জন্য প্রয়োজন স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগ।

এ দেহ ব্যবসায়ী নারী চক্রের হাতে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরাসহ কেউ নিরাপদ নেই। চারদিকে প্রতারণার এ ফাঁদ বিস্তার করে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ চক্রের রয়েছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। যার ফলে সমাজের নিরীহ মানুষের মধ্যে স্বস্তি-শান্তি নেই। মানুষ নানা ভাবে এ খারাপ নারীদের দ্বারা প্রতারিত ও জিম্মি হচ্ছে। চারদিকে প্রতারণার নতুন নতুন ফাঁদ পাতা রয়েছে। একটু অসচেতন অসাবধান হলে যে কেউ এ ফাঁদে পা দিতে পারে।

এই প্রতারকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন, অ্যাপসের মাধ্যমে হাজারো উপায়ে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়। দু’টি লিংক বন্ধ করলে এরা চারটি লিংক চালু করে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এ ব্যাপারে বেশ সক্রিয়। কেবল অনলাইনেই নয়, বিউটি পার্লার ও এনজিও খুলে ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ নারী প্রতারক চক্র। ফলে মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

এদের রয়েছে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী চক্র। এরা প্রথমে সমাজের প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর যোগাড় করে। প্রথমে মিসকল দেয়। পরে কল ব্যাক করলে কথার জালে ফাঁসিয়ে তার নিকটতম হওয়ার চেষ্টা করে। এ ভাবে কিছু দিন চলার পর নামিদামী কোন ফাস্টফুডের স্টলে দেখা করার অফার দেয়। এ ভাবে চলে কিছু দিন। এর মধ্যে নারী প্রতারকদের দালালরা (সন্ত্রাসীরা) ঐ ব্যক্তির গতিবিধী লক্ষ্য করে।

সুযোগ বুঝে দেহ ব্যবসায়ী নারী ও তাদের চক্রের সদস্যরা ফাঁদে পড়া ব্যক্তির অজানতেই বিশেষ মূহুর্ত গুলোর ভিডিও ধারণ করে। এর পর সেই ভিডিওকে পুঁজি করে শুরু হয় লাখ লাখ টাকা হাতানো। ফাঁদে পড়া ব্যক্তি সমাজে ও পরিবারের সম্মান রক্ষা করতেই এ প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দেন লাখ লাখ টাকা। অনেকে প্রতারক চক্রের চাহিদা মিটাতে না পেরে করেন আত্মহত্যা।

চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, এ ধরণের প্রতারনার ঘটনায় কোন ব্যক্তি আমাদের নিকট লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে এ ধরণের প্রতারকদের পাকড়াও করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যহত রয়েছে। সুনির্র্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ জানুয়ারী ২০২৫,/সন্ধ্যা ৭:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit