মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে আমল কবুল হবে না ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যে কলিকে হত্যা, রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি সুতা ও কাপড় আমদানিতে আগাম অনুমতির বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার বিমানকে তুলি, আকাশকে ক্যানভাস বানালেন পাইলট, আঁকলেন মোনালিসার ছবি টাইফুনের প্রভাবে বিপর্যস্ত জাপান, ১৯ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ রেকর্ড ভাঙা এল নিনো: শীত আসার আগেই প্রশান্ত মহাসাগরে নজিরবিহীন উষ্ণতা হুতিদের অগ্রযাত্রা নিয়ে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ গাজায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর রোমহর্ষক গল্প পাসপোর্ট অধিদফতরের নতুন ডিজি মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন

জাতিসংঘের তদন্ত কি আন্দোলনকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৬৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট গণ-আন্দোলনের ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল৷ তাদের এই তদন্ত আন্দোলনের হতাহতের ঘটনার ন্যায় বিচার নিশ্চিতে কতটা সহযোগিতা করবে?

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম৷ বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত জাতিসংঘের হিউম্যন রাইটস অফিসের এই দলটি আন্দোলনের সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রমাণাদি সংগ্রহ, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবে৷

গত জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি খুব দ্রতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়৷ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ওই আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ আন্দোলন হয়ে ওঠে৷ এ সময় দেশজুড়ে অনেক আন্দোলনকারী নিহত হন, আহতও হন কয়েক হাজার মানুষ৷ পুলিশ বাহিনীর গুলিতে আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী অনেক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, বাংলাদেশ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও রয়েছে এমন অভিযোগ৷

আন্দোলনের এক পর্যায়ে ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন তৎকালীণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এমন অবস্থায় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন৷

জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস (ওএইচসিএইচআর) গত মাসে এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানায়, নিরাপত্তারক্ষীরা ‘আন্দোলন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপয়োজনীয় এবং অসম বল প্রয়োগ করেছে- এমন শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে৷’

সংস্থাটি আরো জানায়, ‘‘লঙ্ঘনের (মানবাধিকার) এমন অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, জোরপূর্বক গ্রেপ্তার এবং আটক, গুম, নির্যাতন, খারাপ আচরণ এবং বাকস্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা প্রদান৷”

মারবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী সারা হোসেন জাতিসংঘের এই তদন্তের তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করেন৷ তিনি জানান, বাংলাদেশে ব্যাপকমাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের ওএইচসিএইচআর কোনো প্রতিবেদন তৈরি করছে৷

ডয়চে ভেলেকে এই আইনজীবী বলেন, অনুসন্ধানের সময় কাঠামোটি নির্যাতনে দুটি অভিযোগই তুলে ধরতে পারবে৷ একটি হলো, আন্দোলনের সময়ে চলা নির্যাতনের আর অপরটি হলো সাবেক আওয়ামী সরকারের সদসদ্যের উপর প্রতিহিংসার অভিযোগ৷

সারা হোসেনের মতে, এই প্রতিবেদনন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকারদের ক্ষতিপূরণের জন্য প্রযোজনীয় তদন্তের একটি ধারা তৈরি করবে৷

এদিকে জাতিসংঘের এই তদন্তটিকে জটিল বলে মনে করছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং ওয়াশিংটনের উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারের মাইকেল কুগেলম্যান৷

ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘দেশটি যেই ট্রমার মধ্য দিয়ে গিয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, এটি গুরুত্বপুণ যে, জনগণ জানে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া জারি আছে৷ এবং বিশেষ করে এই কারণে যে, প্রায়ই রাষ্ট্রীয় পর্যাযের অপরাধের জবাবদিহতা ছিল না৷

তদন্তের চ্যালেঞ্জ

তদন্ত পরিচালানা করতে গিয়ে জাতিসংঘের দলটি নির্যাতনে শিকার ব্যক্তি, ডাক্তার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছে৷ তবে জাতিসংঘ জানায়, তারা কোনো ‘অপরাধ বিষয়ক তদন্ত করছে না’ এবং তারা জাতীয় পর্যায়ের কোনো বিচার প্রক্রিয়ার সাথে নয় বরং স্বাধীনভাবে কাজ করছে৷

সারা হোসেন এবং কুগেলম্যানও এই সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন৷ তাদের মতে, এই তদন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের পুরো পরিসরটি প্রকাশ না-ও করতে পারে৷

আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, তারা (জাতিসংঘের দল) কোনো চূড়ান্ত ফলাফলে পৌঁছাতে পারবে না৷ কারণ, অপরাধ বিষয়ক তদন্তের জন্য যেই মানের প্রমাণাদি প্রয়োজন, তা তারা ব্যবহার করছে না৷

কুগেলম্যান সতর্ক করে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার হয়তে জাদিসংঘের দলটিকে সগযোগিতা করতে পারে, কিন্তু তার আগের সরকার এবং এর সমর্থকেরা এই বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে স্বচ্ছ না-ও হতে পারে৷”

কুগেলম্যান অবশ্য এই বিষয়ে জাতিসংঘের আইনি কর্তৃত্বের ঘাটতির কারণে এর প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন৷

ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার বিষয়েও একটি জটিল পরিস্থিতি রয়েছে৷ তদন্তের জন্য তার সাথে যোগাযোগের সুযোগ নতুন দিল্লি দেবে কি না সে বিষয়টি পরিস্কার নয়৷ তাছাড়া, তিনি সহযোগিতা করবেন কিনা সেটিও পরিস্কার নয়৷ কারণ, ভারতের শেখ হাসিনা সরকারের প্রশাসনের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক ছিল৷”

তদন্ত নিয়ে সন্দিহান নির্যাতনের শিকার পরিবারেরা

ডয়চে ভেলেকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, তারা জাতিসংঘের দলটি সাথে যোগাযোগে রয়েছেন৷

তাদের একজন মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত৷ দীপ্তর ভাই মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ আন্দোলনের সময় ১৮ জুলাই গুলিতে নিহত হন৷ নিহত হওয়ার আগে আন্দোলনকারীদের পানি সরবরাহ করছিলেন মুগ্ধ৷ দীপ্ত জানান, তার ভাইয়ের নিহত হওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের দলটিকে তিনি কিছু তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন৷

ডয়চে ভেলেকে দীপ্ত বলেন, ‘‘জাতিসংঘের এই দলটির বিষয়ে আমি খুব বেশি আশাবাদী নই, কারণ, তারা অপরাধের তদন্ত করছে না৷ তারা শুধুমাত্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তদন্ত করছে৷ আলাদাভাবে অপরাধের ঘটনাগুলো নিয়ে তারা তদন্ত করছে না৷ আমার মনে হয়, গণ-আন্দোলনের সময়ে যেই পরিসরে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার পুরোটা এখনো তারা পায়নি৷”

আন্দোলন চলার সময়ে ৪ আগস্ট গুলিতে নিহত হন ১৭ বছরের গোলাম নাফিজ৷ নিহতের বাবা গোলাম রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, আইনজীবীর মাধ্যমে জাতিসংঘের দলের সাথে তার যোগাযোগ হয়েছে৷

তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই জাতিসংঘের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার হোক৷ আমরা আশা করি, এ বিষয়ে তারা একটি পরিপূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করতে পারবে৷”

বিচার নিশ্চিতে সমন্বিত পদক্ষেপ চায় পরিবারগুলো

রাহমান এবং দীপ্তর চাওয়া, এসব ঘটনায় নির্দিষ্ট সন্দেভাজনদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হোক৷ তাদের মতে, বেনামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রায়ই আলোর মুখ দেখে না৷ অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তারা জাতিসংঘ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান৷

ডয়চে ভেলেকে দীপ্ত বলেন, ‘‘আমরা আশা করেছিলাম, অন্তর্বতী সরকার প্রমাণগুলো সুরক্ষিত করবে, যেন প্রক্রিয়াটি নষ্ট হয়ে না যায়৷ কিন্তু এটি হয়নি৷”

ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনো কোনো মামলা করেননি কিন্তু দীপ্তর আশা, সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে জাতিসংঘের তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা যাবে৷ এ বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বেনামাী সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করতে চাই না৷”

উল্লেখ্য, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলের তদন্তে উঠে আসা মূল বিষয়গুলো নিয়ে একটি মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ওএইচসিএইচআর৷ প্রতিবেদনে কিছু পরামর্শও প্রদান করবে তারা৷

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

কিউএনবি/অনিমা/১০ অক্টোবর ২০২৪,/রাত ৯:৫২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit