পেজার হলো যোগাযোগ মাধ্যমের একটি যন্ত্র। ২০ শতকের শেষের দিকে যখন সবার হাতে হাতে মোবাইলের রমরমা ছিল না, সেই সময় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই পেজার। হিজ়বুল্লাহর দাবি, এই নজিরবিহীন হামলার নেপথ্যে রয়েছে মোসাদ। ইজ়রাইলি গুপ্তচর সংস্থার তরফেই কোনোভাবে বিস্ফোরক পেজারের মধ্যে ভরা হয়েছিল।
আর লেভিটও সেকথাই বলেছেন। তার ভাষ্য, ‘এটি বেশ স্পষ্ট যে এই পেজারগুলো সরবরাহ করার সময় এগুলোর ভেতরে খুব ছোট ছোট বিস্ফোরক ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল।’ এটি কোন সাইবার ইস্যু নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই হামলার মধ্যদিয়ে সম্ভবত ইসরাইল এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, তেল আবিব খুব, খুবই সিরিয়াস। তারা উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর ১১ মাসের রকেট হামলার অবসান দেখতে চায়।
এদিকে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরাস আবিয়াদ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সদস্যদের ব্যবহার করা হাজার হাজার পেজার বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই নজিরবিহীন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, কয়েক মাস আগে তাইওয়ানের কাছ থেকে ৫ হাজার পেজার কিনেছিল হিজবুল্লাহ। ইসরাইল এখনও পেজার বিস্ফোরণের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। পেজার বিস্ফোরণের ঘটনা যুদ্ধবিরতির জন্য মিশরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনের সফরকে প্রভাবিত করবে বলে অনেকের ধারণা।