জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমি একজন আশাবাদী মানুষ এবং সমস্যার পরিবর্তে সমস্যার সমাধান নিয়ে বেশি চিন্তা করি। তবে আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলব যে, আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি; যা আগে কখনও ছিল না।’
‘আগামী পাঁচ বছর আমার চোখে ভয়াবহ। আপনি দেখুন মধ্যপ্রাচ্যে, ইউক্রেনে, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ায় কী ঘটছে। এছাড়া কোভিডের অব্যাহত প্রভাব তো আছেই। যা থেকে আমরা অনেকেই বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু অনেকেই এর থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি’, বলেন জয়শঙ্কর।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, এছাড়া সোমবার (১২ আগস্ট) মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা ইরানকে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে বলেছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জয়শঙ্কর বিশ্বেব্যাপী সামরিক সংঘাতের হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সতর্ক করেন যে, এই সংঘাতের প্রভাবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। যেমন গত বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আপনি বিশ্বে যে ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো দেখতে পাচ্ছেন তা হলো, অনেক দেশ এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য কঠিন হয়ে উঠছে, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি রয়েছে। সুতরাং বিভিন্ন ধরনের বাধা আছে তা আপনিও জানেন।’ এছাড়া লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার বিষয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এ সময় জয়শঙ্কর মার্কিন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ দেখাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য দেশের নির্বাচনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ তাদের রায় দেবে। গত ২০ বছরের ওপর ভিত্তি করে, আমাদের আস্থা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন আমরা তার সঙ্গে কাজ করতে পারব।’
সূত্র: এনডিটিভি