খোরশেদ আলম বাবুল শরীয়তপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগর শরীয়তপুরে নেই উন্নয়নের ছোঁয়া। পানি সরবরাহ বন্ধ প্রায় ৬ মাস ধরে। পুরো শিল্পনগরীকে ময়লার ভাগার মনে হয়। একটি মাত্র পুকুর রয়েছে পরিত্যাক্ত অবস্থায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজের কারণে নিস্কাসনও হচ্ছে না ঠিকঠাক। সম্পূর্ণ শিল্পনগরী কে আবর্জনার স্তুপ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। এসকল অনিয়মের কারণে বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
সিবিক শিল্পনগরী সূত্রে জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার কোটাপাড়া (প্রেমতলা) এলাকায় বিসিকের জন্য জমি অধিগ্রহণ কারা হয়েছে ১৯৮৭-১৯৮৮ অর্থ বছরে। সেখানে ১৯৯৬ সালে বিসিক শিল্প নগরী গড়ে উঠতে শুরু হয়। বিসিকের ১০০টি প্লটের মধ্যে ৪টি প্লট নিয়ে গড়ে উঠেছে শিল্পনগরী কার্যালয়। ৯৬টি প্লটে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে ওঠার কথা থাকলেও ৪২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে বলে দাবী করেছেন বিসিক কর্মকর্তা।
বিসিক শিল্পনগরী ঘুরে দেখা গেছে বেশীরভাগ প্লট এখনও খালি পড়ে রয়েছে। অনেক প্লটে বাউন্ডারি ওয়াল করে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। প্লট হারানোর ভয়ে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে মাসে একদুবার উৎপাদন করে সচলের তালিকায় রেখেছেন মালিকরা। বিসিক শিল্পনগরীর ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা জানায়, বিসিক শিল্পনগরীর একটি মাত্র পানির পাম্প দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বন্ধ থাকায় খাদ্য উৎপাদন হয় ময়লা পানি দিয়ে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিল্পনগরীতে গবাদী পশুর বিচরণ ভূমিতে পরিনত হয়েছে। একটি মাত্র পুকুরও রয়েছে কচুরিপানায় আবদ্ধ।
নেই নিস্কাশন ব্যবস্থা। অতিবৃষ্টিতে শিল্পনগরীর রাস্তা ও কারখানা পানিতে তলিয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যায় শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাচামাল ও উৎপাদিত পণ্য। যে সকল শিল্প মালিকরা নিয়মিত উৎপাদনে রয়েছে তাদেরও লোকশান গুনতে হয়। লোকশানের ভয়ে নতুন কোন শিল্প কারখানা গড়তে সাহস পায়না শিল্প মালিকরা। বিসিক শিল্পনগরীকে উৎপাদনমুখী করে নিরাপত্তার বেষ্টুনিতে আবদ্ধ করার দাবী জানিয়েছেন শিল্পনগরীর মালিক ও কর্মচারীরা।
বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হক বলেন, ৬ মাস পূর্বে পারিন পাম্প বিকল হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করার পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন পাম্পের মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। খুব শীঘ্রই সচল হবে। পানি নিস্কাশন ও ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের জন্য খুব কম বরাদ্দ পাওয়া যায়। তা দিয়ে চাহিদামত কাজ করা সম্ভব না। পুকুরটি লিজ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরেও লিজ নিতে আগ্রহী কেউ যোগাযোগ করেনি। তাই পুকুরটি পরিস্কার করা হয়নি। আরো বেশী বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখব। বরাদ্দ পেলে যথারীতি কাজ করা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/০৫ জুন ২০২৪,/বিকাল ৫:২১