সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যুবদল নেতা সাজ্জাদুল মিরাজের বড় ছেলে রোজান আর নেই প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তর, স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে যুবতীর অনশন গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা বিচারকের খাস কামরায় গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ কক্সবাজার কারাগারে মাদক মামলার আসামির মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে ২ লাখ বর্গমিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস ‘আলাদা দেশ হয়েও অঙ্গরাজ্যের সুবিধা চায়’, কানাডা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ট্রাম্পের বালু পাথরের টুকরোয় মিলল হাজার বছরের পুরোনো শহরের খোঁজ হত্যার পর গোসল করে খেজুর ও ইয়াবা সেবন করে খুনিরা: পুলিশ ছাগল খুঁজতে গিয়ে মিলল স্বর্ণের খোঁজ, ছুটছে ১০ হাজার মানুষ

চৌগাছায় দাখিল পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় পাশের হার ৫৩ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র তিন জন,বোর্ডে পাশের হার ৮০ শতাংশ 

এম এ  রহিম চৌগাছা(যশোর) 
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪
  • ১৩৩ Time View

এম এ  রহিম চৌগাছা(যশোর)  : যশোরের চৌগাছায় ২০২৪ সালের দাখিল পরীক্ষায় মারাত্মক ফল বিপর্যয় ঘটেছে ।  চলতি সেশনে চৌগাছার ১ টি কামিল,২টি আলিম ও  ১৮টি দাখিল মাদরাসা থেকে ৫’শ ৯১ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৩’শ১৪ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার শতকরা ৫৩ জন, অথচ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর পাশের হার হয়েছে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ। সবচেয়ে দু:খজনক বিষয় হলো ৩১৪ জন কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মাত্র তিনজন পরীক্ষার্থী জিপিএ -৫ পেয়েছে,তারা সবাই সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার ছাত্র।

সবচেয়ে বেশি ফল খারাপ হয়েছে দিঘড়ি দাখিল মাদরাসার। এ মাদরাসা থেকে ২৯ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল তার মধ্য থেকে মাত্র ২ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এ মাদরাসা থেকে ২৭ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।  মাদ্রাসাটিতে ২৭ জন পরীক্ষার্থী ফেল করার ব্যাপারে জানার জন্য শিক্ষক কর্মচারী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, মাদ্রাসার সুপার শাহানাজ পারভীন বেশিরভাগ সময় মাদ্রাসায় থাকেননা। সেই সুযোগে  অন্যান্য শিক্ষকরা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, সুপার সাহেব তো মাসে পাঁচ দিনও মাদ্রাসায় আসেননা।

তাকে ফোন করলে বলেন, মাদ্রাসার কাজে চৌগাছায় আছি, উনি যে কি কাজে চৌগাছায় থাকেন তা আমরা আজও জানতে পারিনি। একজন অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে ফেল করেছে আবারও পরীক্ষা দিতে হবে সে কারণে আমার নামটা বলতে পারছিনা, আমার জানামতে উনার মত অযোগ্য সুপার চৌগাছার আর কোন প্রতিষ্ঠানে নেই। এরপর খারাপ ফলাফল হয়েছে সৈয়দপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার। এ মাদ্রাসা থেকে এবছর ১৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এরমধ্য থেকে মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী পাশ করেছে এবং ১৫ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে।

মাদ্রাসাটিতে সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা আব্দুর রহমান। এ মাদরাসার সুপারসহ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে  অভিভাবকদের অভিযোগ তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন না। উপজেলার গুয়াতলী মাকানুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদরাসা থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এরমধ্য থেকে মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী পাশ করেছে এবং ১৭ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এ মাদরাসার সুপার মাওলানা বাকিবিল্লাহর বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে অভিভাবকদের। উপজেলার রোস্তমপুর গ্রামের আর.পি.ইউ দাখিল মাদরাসা থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্য থেকে মাত্র ৮ শিক্ষার্থী পাশ করেছে এবং ২০ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এ মাদরাসার শিক্ষকদের সাথে সভাপতির দন্দ্ব বিবাদ লেগেই থাকে।

খড়িঞ্চা দাখিল মাদরাসা থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল এর মধ্য থেকে পাশ করেছে মাত্র ৮ জন এবং ফেল করেছে ২০ জন। এ মাদরাসার সুপারসহ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার শাহাজাদপুর দাখিল মাদরাসা থেকে ২১ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৮ জন শিক্ষার্থী পাশ করেছে। ১৩ জন শিক্ষার্থী ফেল।  যেসব মাদ্রাসায় পাশের থেকে ফেলের সংখ্যা বেশি তারমধ্যে রয়েছে হাকিমপুর দাখিল মাদরাসা, এ মাদরাসায় পাশ করেছে ১৩ জন ফেল করেছে ১৬ জন।

আন্দুলিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে  পাশ করেছে ১৩ জন ফেল করেছে ১৫ জন। বাদেখানপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা, এ মাদ্রাসায় পাশ করেছে ১৪ জন ফেল করেছে ১৫ জন। তবে উপজেলার ২১টি দাখিল মাদরাসার মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসা। এ মাদরাসা থেকে ৩১ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল এর মধ্য থেকে পাশ করেছে ৩০ জন ফেল করেছে  মাত্র এক জন। উপজেলা থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে  তারা সবাই সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

একটি সুত্র থেকে জানাযায়  একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিমাসে সরকারের ব্যয় হয় ৩ লাখ ৯১ হাজার ৫’শ ৬৬ টাকা। সেই হিসেবে বছরে বেতন ভাতা বাবদ ব্যয় হয় ৪৬ লাখ ৯৮ হাজার ৭’শ ৯২ টাকা। এছাড়াও  ২৫ শতাংশ হারে দুই ঈদ ও বৈশাখী বোনাস বাবদ আরো ব্যয় হয় ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬’শ ৭৪ টাকা। সব মিলিয়ে একটি দাখিল মাদরাসায় সরকারের বাৎসরিক কেবলমাত্র বেতনভাতা বাবদ ব্যয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। অথচ অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করার পর একটি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থী পাশ করছে মাত্র ২ জন আবার কোথাও ৪ জন বা ৬ জন। এই হলো চৌগাছা উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষার হাল হাকিকত। বেশি শিক্ষার্থী ফেল করা মাদ্রাসা প্রধানদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ মে ২০২৪,/বিকাল ৪:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit