শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাকিস্তানে পিপিপি নেতার বাড়িতে আত্মঘাতী হামলায় ১৭ জনের প্রাণহানি টাইফুন ‘বাভি’ ঘিরে চীন-তাইওয়ানে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জাপানেও প্রভাবের শঙ্কা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন নেতানিয়াহুর মেসিকে নতুন রূপে দেখছি, সে পুরো দলকে কাঁধে তুলে নিয়েছে: ইয়াসিন বুনু পিস্তল উপহার দিয়ে ন্যাটো নেতাদের বিপদে ফেললেন এরদোয়ান খামেনির শেষ জানাজায় ইমামতি করলেন ১০১ বছরের আয়াতুল্লাহ হামেদানি ২৪ ঘণ্টায় ১১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সরিয়ে নিল ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও থমথমে হরমুজ প্রণালি খামেনির শেষ বিদায়ে ইরান-ইরাকে অংশ নেয় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ: প্রেস টিভি মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

সুন্দরবনে কাল থেকে মধু আহরণ শুরু

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪
  • ১৪৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগে দুই মাসব্যাপী শুরু হচ্ছে মধু আহরণ মৌসুম। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মধু আহরণ মৌসুম চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে নৌকায় করে দল বেঁধে মধু আহরণ করতে ম্যানগ্রোভ এই বনে যাবেন মৌয়ালরা।

এপ্রিলের শুরুতেই সুন্দরবনে গরান ও খলিশা গাছের ফুলের মধু সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। গরান ও খলিশা ফুলের মধু ছাড়াও সুন্দরবনে মে মাসজুড়ে থাকে কেঁওড়া ও ছইলা ফুল। বিভিন্ন গাছের ফুলের মৌচাক থেকে পর্যায়ক্রমে মধু সংগ্রহ করবেন মৌয়ালরা। এরপর জুন মাসে শুরু হয় গেওয়া ফুলের মধু আহরণ।

তবে জুন মাস থেকে সুন্দরবনের সব ধরনের জলজ ও বনজ সম্পদ আহরণে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় গেওয়ার মধু সংগ্রহ সম্ভব হয় না। এবার বৃষ্টির কারণে সুন্দরবনের গাছে পর্যাপ্ত ফুল ফোটায় চলতি আহরণ মৌসুমে মধু সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা সুন্দরবন বিভাগের।

সুন্দরবন বিভাগ ও মৌয়ালরা বলছে, গোটা সুন্দরবনে মধু আহরণের জন্য ১৫ মার্চ থেকে বন বিভাগ পারমিট (অনুমোতি) দেওয়া হলেও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের মূলত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে গরান ও খলিশা পর্যাপ্ত ফুল না ফোটায় গত কয়েক বছর ধরে মৌয়ালরা মধু আহরণে ১৫ দিন পিছিয়ে বন বিভাগ থেকে পাস-পারমিট নিচ্ছেন। এবছর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার কুইন্টাল। আর মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০০ কুইন্টাল। এর মধ্যে শরণখোলা রেঞ্জে ৬০০ কুইন্টাল মধু, ২০০ কুইন্টাল মোম ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৪০০ কুইন্টাল মধু, ১০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে মধু আহরিত হয় ৮৬৩ কুইন্টাল ও মোম আহরিত হয় ২৫৮.৯৬ কুইন্টাল। শরণখোলা ও চাঁপই থেকে থেকে এবার তিন হাজারের অধিক মৌয়াল সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যাবেন বলে ধারণা কররা হচ্ছে।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৌয়াল নুরুল ইসলাম ও খুড়িয়াখালী গ্রামের মৌয়াল আউয়াল খান জানান, গতবছর তাদের দলের প্রত্যেক সদস্য দুই মণ করে মধু পেয়েছিলেন। পাস সংগ্রহ, সরকারি রাজস্ব এবং খাওয়া খরচ মিলিয়ে মৌসুমে তাদের প্রতিজনের খরচ হয় ১২ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর দুই মণ মধু বিক্রি করে একেকজন পেয়েছিলেন ৬০ হাজার টাকা। এবছরও আগাম বৃষ্টি হওয়ায় আশানুরূপ মধু পাবেন বলে মনে করছেন তারা। তাদের এলাকার সব মৌয়ালরা মধু সংগ্রহে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। মধু আহরণ মৌসুমের শুরুতে নৌকা মেরামত, মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেওয়াসহ সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করে বনে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন মৌয়ালরা। এখন বন বিভাগের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। তাদের একেক দলে ১০ থেকে ১২ জন করে মৌয়াল রয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ ১৫ বছর কেউ ২০ বছর ধরে মধু আহরণ করছেন।

মধু ব্যবসায়ী মো. রাসেল আহমেদ ও জালাল মোল্লা বলেন, গতবছর তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। এবছরও একই পরিমাণ বিনিয়োগের আশা আছে। গতবছর প্রায় ১৪ মণ মধু বিক্রি করেছি। প্রতি কেজি মধু খুচরা বিক্রি হয়েছে প্রকার ভেদে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সুন্দরবনের সবচেয়ে উৎকৃষ্টমানের যে মধু সেটা আসে খলিসা এবং গরান ফুল থেকে। পশ্চিম সুন্দরবন অঞ্চলের খলিসা এবং গরান গাছে আগাম ফুল চলে আসে। কিন্তু আমাদের পূর্ব সুন্দরবনে এই সময় খলিসা ও গরান গাছে ফুল আসে না। পুরো এপ্রিল মাস খলিসা ও গরান ফুলের মধু সংগ্রহ হয়। মে মাসজুড়ে থাকে কেঁওড়া ও ছইলা ফুল। এরপর জুন মাসে শুরু হয় গেওয়া ফুলের মধু আহরণ। তবে, জুন মাস থেকে সুন্দরবনের সব ধরনের জলজ ও বনজ সম্পদ আহরণে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় গেওয়ার মধু সংগ্রহ সম্ভব হয় না।

বাগেরহাটের পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) শেখ মাহাবুব হাসান বলেন, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে খলিসা এবং গরান গাছে ফুল দেরিতে আসায় মধু সংগ্রহের নিয়ম এবং বনআইনের নীতিমালা অনুসরণ করে ১ এপ্রিল থেকেই মৌয়ালদের ১৪ দিন করে পাস (অনুমতিপত্র) দেওয়া শুরু হবে। বৃষ্টির কারণে এবছর গাছে গাছে ফুলের সমারোহ বেশি। এতে করে বোঝা যাচ্ছে গতবারের তুলনায় বেশি মধু আহরণ হবে। তবে মৌসুমের শেষে জুন মাস থেকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে পুরো মৌসুম মধু মধু আহরণ সম্ভব হয় না।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহম্মদ নূরুল করিম জানান, একেকজন মৌয়ালকে ১৪ দিনের জন্য পাস দেওয়া হয়। বনে প্রবেশ করার পর মুধ আহরণের জন্য ৯টি নির্দেশনা দেওয়া হবে মৌয়ালদের। এসব নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-কোনো মৌয়াল মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছি তাড়াতে অগ্নিকুণ্ড, মশাল বা অনুরূপ কোনো দাহ্য পদার্থ এবং রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা অমান্য করেল তার বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/৩১ মার্চ ২০২৪/সন্ধ্যা ৬:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit