আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় কনসার্ট হলে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। এতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। রুশ তদন্ত কমিটির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় মস্কোর ক্রোকাস সিটি হলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ বা আইএস-কে। কিন্তু এই হামলার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য কী?
‘আইএস-কে’ আসলে কারা?
‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ বা আইএস-কে হচ্ছে ইরান, তুর্কমেনিস্তান ও আফগানিস্তানের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত খোরাসান অঞ্চলে (পুরোনো নাম) সক্রিয় থাকা একটি গোষ্ঠী। ২০১৪ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এই গোষ্ঠীর আবির্ভাব হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ের নৃশংসতা দেখিয়ে দ্রুতই বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে গোষ্ঠীটি।
আইএস-কে হচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের সবচেয়ে সক্রিয় আঞ্চলিক সহযোগী। ২০১৮ সালে সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ হওয়ার পর থেকে তা আবার কমতে শুরু করে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে আশরাফ গনি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসা তালেবান এবং সেই সময় দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধনের পেছনেও আছে গোষ্ঠীটির হাত।
আমেরিকার দাবি, ২০২১ সালে মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দেশটিতে আইএস-কের মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করার সক্ষমতায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
গোষ্ঠীটির উল্লেখযোগ্য হামলা
আফগানিস্তানের ভেতরে ও বাইরে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় বড় রকমের হামলা চালানোর ইতিহাস আছে আইএস-কে’র।
চলতি বছরের শুরুতে ইরানে জোড়া বোমা হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়। এটিও আইএস-কে চালিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি।
এছাড়াও প্রায় দুই বছর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে রাশিয়ার দূতাবাসে রক্তক্ষয়ী আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করে আইএস-কে।
এ ঘটনার আগের বছর ২০২১ সালে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ১৩ মার্কিন সেনা ও বেশ কিছু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে আইএস-কে। তালেবানের কাবুল দখল এবং সেখান থেকে মার্কিন সেনা ও অনেক আফগানের দেশ ছাড়ার মুহূর্তে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে চালানো হয় ওই হামলা।
রাশিয়ায় হামলার পেছনে উদ্দেশ্য কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গোষ্ঠীটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধিতা করে আসছিল।
এ প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সোফান সেন্টারের কলিন ক্লার্ক বলেন, “দুই বছর ধরেই রাশিয়াকে নিশানা করেছে আইএস-কে। তারা তাদের প্রচারণায় প্রায়ই পুতিনের সমালোচনা করে আসছে।”
ওয়াশিংটনভিত্তিক আরেকটি প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, রাশিয়াকে নিয়মিতভাবে মুসলিমবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা একটি দেশ হিসেবে মনে করে আইএস-কে।
তিনি বলেন, আইএস-কে মস্কোর বিরুদ্ধে নিজস্ব অভিযোগের পক্ষে মধ্য এশিয়ার কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিজেদের সদস্যের মতো বিবেচনা করে থাকে। সূত্র: রয়টার্স
কিউএনবি/অনিমা/২৩ মার্চ ২০২৪/দুপুর ১:০২