শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান শেখ হাসিনা: রাজনীতিতে এক চালবাজি ঘোষণা মাত্র রাত ১টার মধ্যে ১৭ জেলায় অতিভারী বৃষ্টির আভাস খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের চট্টগ্রামের বন্যা উন্নতির পূর্বাভাস, সিলেট-রংপুরে শঙ্কা চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ খামেনির জানাজা-দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন ৪ কোটিরও বেশি মানুষ ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল অনুমোদন মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পাকিস্তানে পিপিপি নেতার বাড়িতে আত্মঘাতী হামলায় ১৭ জনের প্রাণহানি

দুর্গাপুরের ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চলছে প্রতারণা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১৩২ Time View

তোবারক হোসেন খোকন,দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডানে-বায়ে যেদিকেই চোখ যায়, দেখা মেলে নানা রঙের আলোয় আলোকিত-সুসজ্জিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানে সেবার নামে চলে টেস্ট বাণিজ্য, জালিয়াতি, প্রতারণা, হয়রানি। সেবা কতোটুকু পাওয়া যায় সেখানে, যিনি সেবা নিতে যান তারাই বোঝেন। সরকারি হাসপাতাল থেকে নানা কথা-বার্তায় গ্রামের সাধারণ রোগীদের নিয়ে আসে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। বিনিময়ে নেয় কমিশন। অথচ প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে পুনরায় আসতে হয় ডাক্তারের কাছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অধিকাংশেরই অনুমোদন নেই। যে গুলোর অনুমোদন আছে সেগুলোর সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুমোদনের অনেক শর্তই পূরণ করেনি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো, নেই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, পর্যাপ্ত জনবল। দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ঘিঞ্জি-দুর্গন্ধময় পরিবেশ, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, নাই আধুনিক অপারেশন থিয়েটার মোটকথা সরকারি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেদারছে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে রক্তের স্যাম্পল নিয়ে মান সম্মত রিপোর্ট দিচ্ছে কিনা তাহাও সন্দেহ রয়েছে। এমনও শোনাগেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাডে, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারের স্বাক্ষর নিয়ে রাখা ছিলো, পরে ভুয়া রিপোর্ট বানিয়ে রোগীদের হাতে ধরিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মতে, দেশের যে কোনো এলাকায় ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে রেজিষ্ট্রেশন করা সহ মানতে হবে ১০ নির্দেশনা। এ রেজিষ্ট্রেশন প্রতি বছরই জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে নবায়ন করতে হয়। এ জন্য পাকা এবং ছাদ ঢালাই বিশিষ্ঠ ঘর দেখানো সহ ওই ক্লিনিকে সার্বক্ষনিক ৩ জন ডাক্তার, ৬ জন ডিপ্লোমা নার্স, ৬ জন আয়া এবং আগুন নেভানো ম্যাশিন সহ পুরো ক্লিনিক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, জেনারেটর ব্যবস্থা এবং বøাড সংরক্ষনের সু-ব্যবস্থা রাখা এবং নির্ভরযোগ্য (এসি) ওটি ব্যবস্থা থাকতে হয়। কিন্তু এসব শর্ত পূরণের কোনই ব্যবস্থা নেই এখানকার ক্লিনিক গুলোতে। একই অবস্থা ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লিনিকে দায়িত্বরত প্যাথলজিস্ট বলেন, আমাদের নিজস্ব কোন ডাক্তার নাই, রুগী হলে ময়মনসিংহ থেকে ডাক্তার আসতে বলি অপারেশন করানোর জন্য। প্যাথলজি খোলা থাকে, রোগী আসলেই টেস্ট করাই। লাইসেন্স’র বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো লাইসেন্স পাইনি, দু‘এক মাসের মধ্যেই পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসা চালানোর কথায় বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভার:) ডাঃ রাকিবুল হাসান যুগান্তর কে বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এতে ২৭ টির মধ্যে ৫টির লাইসেন্স রয়েছে। অন্য গুলোর আপডেট কাগজ-পত্র নেই। ইতোমধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানকে কাগজপত্র ঠিক করতে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করে পুনরায় সতর্কও করা হয়েছে। তাদের আর কোন ছাড় দেয়া হবে না। অচিরেই পুনরায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ওইসকল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক গুলোর কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করা হবে। এবার যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যাবেনা, তাদের স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়াসহ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কিউএনবি /অনিমা/২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪/সন্ধ্যা ৬:২১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit