ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশে গত এক যুগে নজিরবিহীন উন্নয়ন হয়েছে সড়ক খাতে। পদ্মাসেতু, এক্সপ্রেস হাইওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণসহ সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিময় করতে চলামান আছে আরও কয়েকটি মেঘা প্রকল্প। সড়কে দুর্ঘটনা এড়িয়ে নিরাপদে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে বেশ কিছু অঞ্চলে উড়াল সড়কের প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এসব প্রকল্প সড়ক পথে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সহজ থেকে সহজতর।
তবে এত সব সড়ক নির্মাণে যোগাযোগ খাতের অগ্রগতিতে সময়ের সাথে দেশের সড়ক দুর্ঘটনা কমার কথা থাকলেও বছর শেষে তুলনামূলকভাবে কমছে না সড়কে মৃত্যুর হার। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে যান চলাচলে আসতে পারে নতুন নীতিমালা, বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, অটো রিকশাসহ থ্রি হুইলার যানবাহন গুলো চলাচলে থাকবে কড়া নির্দেশনা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য মতে গেলো বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৯৫ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যাও বহু। এছাড়া বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, ২০২৩ সালে সড়কে ৬ হাজার ২৬১ টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭ হাজার ৯৯২ জনের। আহত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি।
বিআরটিয়ের তথ্য বলছে, দেশের দুর্ঘটনার ৭০ ভাগই মোটরসাইকেল ও ইজি বাইক ও থ্রি হুইলারের সংঘটিত। দেশের অবৈধ অটোরিকশা, সিএনজিতেই মূলত বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা। এছাড়া বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চলাচলেও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে দুর্ঘটনা। ফলে সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নজর দিয়েছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়, ইতোমধ্যেই নতুন নীতিমালা প্রদানে সড়ক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যেই নতুন নীতিমালা আসতে পারে বলে ধারণা করছে সবাই।
এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক নীতিমালা প্রদানে বিআরটিএ সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, সড়কে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে ইজি বাইকের জন্য। একটি বাসের দুর্ঘটনা হলে মৃত্যুর সংখ্যা কম হয় তবে ইজিবাইকের দুর্ঘটনায় সকল যাত্রীর প্রাণ চলে যায়। এছাড়া দ্রুত গতিতে মোটর সাইকেল চালানোতে দুর্ঘটনা বাড়ছে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যত দ্রুত সম্ভব নীতিমালা করবে সচিব।
তিনি আরও বলেন, দেশের ২২ টা সড়কে নছিমন-করিমন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তা কেউ মানে নি, বাস্তবায়নও হয়নি৷ এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কিছুটা দায়বদ্ধতা আছে। আমাদের হাইওয়ে পুলিশ কম থাকায়ও কিছুটা এ নির্দেশনা কিছুটা বাহত হয়েছে। নতুন নীতি মালা আসলে পর্যায়ক্রমে সব নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ জানুয়ারী ২০২৪,/বিকাল ৪:৫১