মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

রজব মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

শহিদ আহমেদ খান সাবের,সিলেট প্রতিনিধি।
  • Update Time : রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১০২ Time View

শহিদ আহমেদ খান সাবের,সিলেট প্রতিনিধি : চলছে ১৪৪৫ হিজরির রজব মাস। রজব মাস শুরু হয়েগেছে!! এ মাসের ২৬ রজব দিনগত রাতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে পবিত্র শবেমেরাজ। ‘রজব’ শব্দের অর্থ সম্মানিত। সুতরাং রজব মাস অত্যন্ত সম্মানিত ও ফজিলতপূর্ণ। জাহেলিয়ার যুগে আরবরা এ মাসকে অন্য মাসের তুলনায় অধিক সম্মান করতেন। এজন্য তারা এ মাসের নাম রেখেছিল ‘রজব’। ইসলাম আগমণের পর বছরের ১২ মাসের মধ্য থেকে রজবসহ ৪ মাসকে ‘আশহুরে হুরুম’ সম্মানিত মাস ঘোষণা করা হয়। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কাছে গণনায় মাস ১২টি, তার মধ্যে ৪টি (সম্মানিত হওয়ার কারণে) নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। (সুরা তওবা : আয়াত ৩৬)।

মোমিনের ইবাদতের কিছু বিশেষ মৌসুম রয়েছে। যে মৌসুমগুলোতে একজন মোমিন অল্প আমলেও অধিক সাওয়াবের অধিকারী হতে পারেন। তার মধ্য থেকে একটি অন্যতম মাস হলো রজব মাস। রজব হিজরি মাসগুলোর মধ্যে সপ্তম মাস। রজব অর্থম্ভ্রান্ত, প্রাচুর্যময়, মহান। এ মাসের মর্যাদা উপলব্ধি করতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’

(বায়হাকি) মর্যাদার এ মাসটিতে মহান আল্লাহতায়ালা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বছর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো ‘রজব মুদার’, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।’ (মুসলিম) মর্যাদার এ মাসটি মুমিন মুসলমানের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমরে কাপড়বেঁধে এ মাসের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন।

রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে দোয়া পড়তেন; তার উম্মতকেও দোয়া পড়তে বলতেন। উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বোখারি ও মুসলিম) ‘রজব মুদার’ বা বহুবিদ কল্যাণের সম্মিলন এ মাস। রমজানের আগে নিজেদের আমল ও ইবাদতের জন্য উপযোগী করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাসও রজব। তাছাড়া রজব ও শাবান হলো পাশাপাশি দুটি জোড়া মাস। মাস দুটিকে একত্রে রজবান বা রাজাবাইনও বলা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-ইসতেগফার ও রোজা রাখার মতো আমল ইবাদত করে এ দুই মাসে নিজেদের প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।

রজব মাসজুড়ে বিশ্বনবির ইবাদত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসজুড়ে অত্যধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতে, নিজের মন-মানসিকতাকে পরিচ্ছন্ন করতে এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা উঠে এসেছে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা) জমি চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে) জমি আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস; রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)।

উম্মাহাতুল মোমিনিনদের বর্ণনায় রজব ও শাবান মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন; তা উম্মাহাতুল মোমিনিনদের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট। হাদিসে এসেছে- হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতপর রজব মাসে। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন।’ (দারিমি) রজব মাসের বিশেষ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাসজুড়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল- ‘সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা।’

সাহাবায়ে কেরামের দৃষ্টিতে রজব মাসজুড়ে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্ন বান হওয়া খুবই জরুরি। সাহাবায়ে কেরামও এ মাসের ইবাদত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, রজব মাসের প্রথম তারিখে ১০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়।

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতি মহান (মর্যাদার) ৪টি রাত হলো- রজব মাসের প্রথম রাত, শাবান মাসের মধ্য দিবসের রাত (শবেবরাত). শাওয়াল মাসের প্রথম রাত (ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদের রাত), জিলহজ মাসের দশম রাত (ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদের রাত)। সুতরাং মোমিন মুসলমানের উচিত, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ আমাদের রজব ও শাবান মাসে অধিক পরিমাণে ইবাদতে মশগুল থেকে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন!

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ জানুয়ারী ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit