রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী করোনা-পরবর্তী টানা পাঁচ বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি, ভারতের অর্থনীতি প্রশংসনীয়: অর্থনীতিবিদ সংস্কার দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষে উত্তাল প্যারিস যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল মাঠে ট্রাক ঢুকে শিশুসহ নিহত ২, চালক পুলিশ হেফাজতে ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান কেটি জ্যাকারিয়ার বিতর্কিত বিদায়ে হোয়াইট হাউস কেন চরম অস্বস্তিতে আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রণক্ষেত্র রাজধানী তিরানা ফরাসি মেয়র ও আর্চবিশপের ওপর ইসরায়েলি সেটেলারদের হামলা বৃষ্টির জেরে বিশৃঙ্খলা, সংকীর্ণ রাস্তা ও অন্ধকারে ঘটে গেল ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের দাবানল

চৌগাছায় হাট-বাজার ও পথে প্রান্তরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করে স্কুল শিক্ষার্থীর বাড়তি আয়

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) 
  • Update Time : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৩১ Time View

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)  : যশোরের চৌগাছায় হাট-বজার ও পথে প্রান্তরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করে সংসারের জন্য স্কুল শিক্ষার্থীর বাড়তিআয়। আশরাফ আলী। বয়স মাত্র ১২ বছর। ৫ম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। সে মুন্সিগঞ্জ জেলার লোহজং উপজেলার দক্ষিণ হলুদিয়া গ্রামের সেলিম শেখের ছেলে। বাবা সেলিম শেখ পেশায় এক জন দর্জি ব্যবসায়ি। তিনিও মৌসুমি পতাকা বিক্রি করেন। প্রতি বছরের মত এবারও বিজয়েরমাসে বাড়তি আয়ের জন্য মৌসুমী পতাকা বিক্রি করেত এসেছে যশোরের চৌগাছা এলাকায়। বাবা ছেলে মিলে বৃহত্তম যশোর জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় পতাকা বিক্রি করবে তারা। তারা জেলার বিভিন্ন হাট বাজারসহ পথে-প্রান্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পায়ে হেটে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রি করে।

শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে চৌগাছা শহরের কামিল মাদ্রাসা গেট এলাকায় পতাকা বিক্রি করার সময় কথা হয় আশরাফ আলীর সাথে। এ সময় আশরাফ আলী জানায়, সে লোহজং উপজেলার দক্ষিণ হলুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ শ্রেণির একজননিয়মিত শিক্ষার্থী। শ্রেণিতে ৫৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তার শ্রেণি রোল ১০। ২০২৩ সালে ৫ম শ্রেণির বার্ষিকপরীক্ষা দিয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরের পরে বাড়িতে গিয়ে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। আশরাফ আলী জানায় তিন ভাই বোনের মধ্যে সে সবার বড়। বাবার অভাব-অনাটনের সংসারে বাড়তি আয়েরজন্য তিন বছর ধরে বিজয়ের মাসে মৌসুমি পতাকা বিক্রি করছে। এবছর তার বাবা চুয়াডাঙ্গা শহরে পতাকা বিক্রিকরছেন। আর সে যশোরের চৌগাছায়। বিক্রি শেষে রাতে বাবার পূর্ব পরিচিত শহরের একটি হোটেলে রাত্রি যাপন করে সে।বছরের ১১ মাস লেখা পড়া করলেও বিজয়ের মাস ডিসেম্বর আসলে এই সময়টাতে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে বিজয়ের মাসে জাতীয় পতাকা, মাথায় এবং হাতে বাঁধার ব্যাচ ও বিজয় দিবসের ক্যাপসহ অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে। ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ব্যবসা চলে। সেই সাথে এবার যোগ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন তাই বেচা বিক্রি ভালোই হচ্ছে।জাতীয় পতাকার পাশাপাশি হাতে বাধা ব্যাচ গুলোও ভালই বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ৭শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এতে করে গত কয়েক দিনে পতাকা বিক্রি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর এই বিজয় নিশান কাঁধে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে ভালোই লাগে তার।

শহরের ব্যবসায়ী আব্দুল মুন্নাফ কালু মিয়া বলেন, সারা বছর এদের দেখা না মিললেও সেলিম শেখ ও ছেলেআশরাফ আলী মত বিজয়ের মাসে শহর থেকে গ্রামে হাট বাজারে দেখা মেলে ৮/১০ফুট লম্বা বাঁশে বেঁধে বিক্রি করা এসব মৌসুমী পতাকা বিক্রেতাদের। রয়েছে নানা আকারের পতাকা এবং পতাকার লোগো সংবলিত মাথা ও হাতে বাঁধার ব্যান্ড। পতাকার মধ্যে বর্তমান লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন লাল-সবুজের মাঝে হলুদ মানচিত্র আঁকা পতাকা ও ব্যাচ।শহরের হোটেল ব্যাবসায়ী আল মামুন বলেন, বিজয়ের মাসে অনেকেই বাড়ির ছাদে, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সামনে এমনকি গাড়িতেও জাতীয় পতাকা ওড়ান। এর ফলে বিজয়ের মাস এলেই জাতীয় পতাকার চাহিদা বেড়ে যায়। অনেক মানুষ দর্জির দোকানে গিয়ে পতাকা বানিয়ে নেয়ার চেয়ে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে সহজেই কিনছে তাদের চাহিদা মত পতাকাসহ অন্যান্য জিনিস। এই সুযোগে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন।স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বলেন, মানুষ দর্জির দোকানে গিয়ে পতাকা বানিয়ে নেয়ার চেয়ে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে সহজেই কিনছে তাদের চাহিদা মত পতাকাসহ অন্যান্য জিনিস। তবে ক্রয়করা জাতীয় পতাকা গুলো সঠিক মাপ অনুযায়ী তৈরি করা হয় কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।

 

 

কিউএনবি/অনিমা/১৫ ডিসেম্বর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৪১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit