ইট ভাটার কারণে দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ! অপরিকল্পিত পুকুর খনন সেই পুকুরে পড়ে ১ জনের মৃত্যু
আসাদুজ্জামান আসাদ দিনাজপুর প্রতিনিধি
Update Time :
বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৩
১৯৫
Time View
আসাদুজ্জামান আসাদ দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুরের একটি ইউনিয়নে ২৫ টি ইট ভাটা ৩কিমি পাকা রাস্তার দুই পার্শে ভাটা গুলো, যায়গা বিশেষে রাস্তায় দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি মাটির আস্তরণ পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাকা রাস্তা হয়ে যায় কর্দমাক্ত নয়তো ধূলায় ঢাকা, ফলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ৩০টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। স্কুলগুলোর শিশুরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে স্কুল থেকে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের জনবসতিপুর্ন গ্রামে মধ্যে গড়ে তুলেছেন ইটের ভাটা। অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করায় সেই পুকুরে পড়ে গত তিন মাসে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ ২৯ শে নভেম্বর সকালে সাফিকুল( ৪০) সেই গভীর পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এই এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি স্কুল, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ সহ প্রায় ১০-১৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের সময় রাস্তায় ব্যাপক ইট ভাটার টলি গুলো বেপরোয়া চলাচলের জন্য দুর্চিন্তায় থাকতে হয় অভিভাবকদের। সেইসঙ্গে আশেপাশের ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচল এখন পরিবেশ দুষন,শব্দ দুষনে কিন্তু স্কুল মাদরাসার পাশ ঘিরে পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে জনবসতির পাশে গড়ে উঠা ‘ ইটভাটা গুলোর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই অঞ্চলের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ।
দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী এই সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর, আবেদন করেও কোনও সমাধান না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন । সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ট্রাক ও ট্রলি গাড়িতে ভরে মাটি যাচ্ছে হামিদপুর ইউনিয়নের ঢেরেরহাট বাজারের অবস্থিত সততা ব্রিকস নামের ইট ভাটায়। সারা বছর পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি পরিবহনের কারণে পাকা রাস্তার ওপর দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত মাটির স্তূপ পড়েছে, সেই সাথে রাস্তা ফেটে যাচ্ছে। জমে থাকা এই মাটি ও ধুলায় রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করতে পারছেন না।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি হলে কাদা আর বৃষ্টি না থাকলে ধুলাবালি সেইসঙ্গে ইট ভাটায় প্রতিদিন মাটি বহনকারী ট্রাকের শব্দে তারা পড়েছেন মহা বিপাকে। অভিযোগ রয়েছে ফসলের উর্বর জমি কেটেও অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করে মাটি নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। আর সেই পুকুরে পড়ে মানুষ সহ গবাদি পশু মারা যাচ্ছে।
বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্রে শহরে যাবার পথে ধুলাবালি আর কাদার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। বড়রা কোনোভাবে চলতে পারলেও শিশুরা স্কুলে যেতে চায় না। আশেপাশের ৫০ হাজার মানুষের এই দুর্ভোগ নিয়ে উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত কথা বললেও কোনও লাভ হচ্ছে না। প্রশাসন মৌখিক আশ্বাস দিলেও আমাদের মুক্তি মিলছে না এই দুর্ভোগ থেকে।
স্থানীয় যুবক মিজান জানান,ইট ভাটার ট্রলির চলাচলের কারণে ৭-৮টি গ্রামের স্কুলমুখী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারী মহা বিপাকে। মাদরাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা চরম বিরক্ত স্কুলে হেঁটে যাওয়ার সময় বৃষ্টি হলে কাদার কারণে যেতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ইটভাটার ট্রাক দ্রুতগতিতে ছুটে যাওয়ার সময় ধুলায় পরিবেশ নষ্ট করে ফেলছে। আমরা বড়রাসহ ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জমিনে নেমে ওই স্থান অতিক্রম করতে হয়৷ ইটভাটাগুলো করা হয়েছে আইন না মেনে জনবসতিতে সেইসঙ্গে ফসলের মাঠ এবং তিন ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।
হাজী সানাউল্লাহ স্কুলে মাদরাসার শিক্ষার্থী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, প্রতিদিন মাদরাসায় হেঁটে যাওয়ার সময় এইসব ট্রাক দ্রুত গতিতে যায়। তখন তারা রাস্তা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জমিনে নেমে পড়েন৷ এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তারা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে না। এবিষয়ে সততা ইট ভাটার মালিক আমিনুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায় নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর দিনাজপুর সহকারী পরিচালক সামিউল জানান, ইটভাটার সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি । অভিযোগ পেয়ে কাগজপত্র যাচাই করে আমরা যা পেয়েছি তাতে অধিকাংশ ইটভাটার কাগজ পত্রে প্রচুর সমস্যা পেয়েছি।এ সপ্তাহেই আমরা ব্যবস্থা নেব প্রয়োজনে ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হবে।