লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : ডায়াবেটিস একটি দুরারোগ্য রোগ, যা সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সর্বদা রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি ডায়াবেটিস রোগীদেরও ব্যায়াম করা উচিত।
সুগারের রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল কোন জিনিসগুলি তাদের খেতে হবে এবং কোনটি এড়িয়ে চলতে হবে। অনেক স্বাস্থ্যকর জিনিস আছে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের পেঁয়াজ খাওয়া উচিত কি না তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। ডায়াবেটিকের রোগীরা পেঁয়াজ খেতে পারবেন কিনা আর খেলেও কতটুকু তা এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
প্রতিটি বাড়ির রান্নাঘরে পেঁয়াজ থাকেই এবং প্রায় প্রতিটি রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এটি সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়। পেঁয়াজে উপস্থিত বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি আয়ুর্বেদে ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং ভিটামিন সি এর মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা শরীরের জন্য উপকারী।
পেঁয়াজে পর্যাপ্ত পরিমাণে সোডিয়াম, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন এ এবং ফোলেট রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড। শরীরে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে এর সেবন খুবই উপকারী। এটি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কাঁচা পেঁয়াজ খুবই উপকারী। পেঁয়াজের মধ্যে কোয়ারসেটিন নামক একটি ফ্ল্যাভোনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ ঘনত্বে পাওয়া যায়। এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলোকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে পেঁয়াজের বাল্বে সালফার যৌগের উপস্থিতি রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।
পেঁয়াজে উপস্থিত পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার শরীরের হজম প্রক্রিয়ার উন্নতিতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি এটি হজমশক্তি ঠিক রাখে এবং ওজন কমাতেও খুবই উপকারী। শরীরে শক্তি যোগানোর পাশাপাশি হৃৎপিণ্ডকেও রোগ থেকে রক্ষা করে।
সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীরা কাঁচা পেঁয়াজ কিংবা রান্না করা পেঁয়াজ দুটোই খেতে পারবেন।
কিউএনবি/অনিমা/২১ নভেম্বর ২০২৩,/বিকাল ৪:৫২