আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সহায়তা নিয়ে ইউক্রেনে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ অবশ্য ভলোদিমির জেলেনস্কির সংশয় দূর করার চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ডয়চে ভেলে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্য সংকট সংবাদের শিরোনাম দখল করে রেখেছে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে খবর ও আগ্রহে কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। অথচ রাশিয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রামে পশ্চিমা বিশ্বের লাগাতার সাহায্য ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে যুদ্ধক্ষেত্রে দুর্বলতা অনিবার্য। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাই কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন।
গতকাল বুধবার এক টেলিফোন সংলাপে ফরাসি প্রেসিডেন্ট অবশ্য তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ফ্রান্স তথা ইউরোপের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের প্রতি অঙ্গীকার খর্ব করা হবে না। তার মতে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংকট নিয়ে ব্যস্ততা সত্ত্বেও ইউক্রেন থেকে নজর সরে যাবে না।
আসন্ন শীতকালে রাশিয়া গত বছরের মতো ইউক্রেনের অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর আকাশপথে হামলা চালাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগের বার বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বণ্টনের অবকাঠামোর ওপর আক্রমণের ফলে অনেক মানুষকে শীতের মধ্যেও কষ্টে থাকতে হয়েছে। এবারও সে রকম হামলা হলে তার আগেই কিয়েভের সামরিক ক্ষমতা যতটা সম্ভব বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন জেলেনস্কি ও মাখোঁ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যস্ততা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘কুকীর্তি’ও অনেকটা ঢাকা পড়ে যাবে বলে রুশ নেতৃত্ব মনে করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইউক্রেনের ওপর হামলার মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ অক্টোবর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:১৫