রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

চিকিৎসাও নিতে পারছে না গাজার মানুষ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৮৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ক্ষুধা-তৃষ্ণায় দিশেহারা আদিমানবরা হঠাৎ একটা শিকার ঘিরে যেমন তান্ডব নৃত্য শুরু করত কিংবা দল বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়ত শিকার শিকারে- ভয়ে কাতর অবরুদ্ধ গাজার অসহায় বেসামরিক মানুষগুলোরও ঠিক সেই দশা এখন। বুট-বুলেট-ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক-ড্রোন-বিমান হামলার সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইসরাইলে সুপ্রশিক্ষিত বিশাল সেনাবাহিনী। শত্রু শিকারে নেমেছে। গত শনিবার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বোমা ফেলছে মাত্র ৪৫ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট জনপদে। ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলায় ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে বিধ্বস্ত গাজা। এখানেই কি শেষ? একদিকে ‘ঘরে ঢুকে ঢুকে’ মারছে অন্যদিকে বন্ধ করে দিয়েছে চিকিৎসা নেওয়ার পথও-কী ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা!

প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত ইসরাইল বন্ধ করে দিয়েছে গাজার বিদ্যুৎ সরবরাহ। গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অন্ধকারে ডুবে আছে অবরুদ্ধ গাজার বেশির ভাগ অংশ। ইসরাইলের পরিকল্পিত ব্লাকআউটে থমকে আছে গাজার হাসপাতালগুলো। একদিকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে রোগী অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটে অচল হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা! হাসপাতালের বারান্দায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে ইসরাইলের বুলেট-বোমার নৃশংস হামলায় ক্ষতবিক্ষত সাধারণ নাগরিকরা। শনিবার সন্ধ্যার পরপরই ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, তিনি গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার জন্য রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমি বৈদ্যুতিক সংস্থাকে গাজা স্ট্রিপে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে আদেশে স্বাক্ষর করেছি।’ হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকর্মীরা বলছেন, অপারেশনসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। নবজাত শিশু, ডায়ালাইসিস, হার্ট, শ্বাসকষ্টের রোগী এবং যারা অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন তারা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে আছেন। খান ইউনুস অবস্থিত গাজার ইউরোপিয়ান হাসপাতালের নার্স হাসান আবু সুলতান বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে হার্ট এবং সার্জারির ক্ষেত্রে।

বিদ্যুৎ কাটার কারণে (অধিদপ্তরের ওপর) চাপ আরও বাড়ছে। সকাল থেকে, একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মেশিনের ওপর নির্ভরশীল রোগীদের বেশ কষ্ট হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎবিঘ্ন অবশ্যই নবজাতকসহ রোগীদের জীবনকে (অনিবার্য) ঝুঁকিতে ফেলবে।’ প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো বজায় রাখার জন্য এখন তারা ব্যাকআপ জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছেন।

গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র আশরাফ আল-কেদরা বলেছেন, ‘বেশ কয়েকটি হাসপাতাল পুরোনো এবং ‘জীর্ণ’ জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে যা জ্বালানি খরচকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। উপলব্ধ জ্বালানি মজুত দীর্ঘ সময়ের জন্য হাসপাতালের অপারেশন টিকিয়ে রাখার জন্য অপর্যাপ্ত। আমরা সত্যিই উদ্বিগ্ন যে, যে কোনো মুহূর্তে বিদ্যুৎ জেনারেটরগুলো কাজ বন্ধ করে দিতে পারে।’ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বেশ ভয়ে দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতিতে গাজার বাসিন্দা নারমিন বাসেল বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে।

কিউএনবি/অনিমা/১০ অক্টোবর ২০২৩,/সকাল ১১:৪১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit