আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ইরান কেন ধীর ও সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নিচ্ছে- সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক আব্বাস আসলানি।
তার মতে, অতীত অভিজ্ঞতা বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা ইরানের আলোচনাকারী দলকে আরও সতর্ক করে তুলেছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ও পূর্ববর্তী আলোচনার সময়েও ইরানের ওপর সামরিক হামলা হয়েছে, যা আস্থা সংকটকে আরও গভীর করেছে।
আসলানি উল্লেখ করেন, গত বছরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া আরেকটি সংঘাত। এসব ঘটনা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আসলানির মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় ধীরগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
তিনি বলেন, “সিনিয়র নেতৃত্বের হত্যাকাণ্ড এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সময় প্রয়োজন হচ্ছে।”
তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আগের মতো দ্রুত ও এককেন্দ্রিকভাবে হচ্ছে না।
আসলানি আরও বলেন, ইরান চায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও চুক্তি যেন বাস্তবিক অর্থেই কার্যকর ও দেশের জন্য উপকারী হয়। এ কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একাধিক রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, “কোনও একটি ব্যক্তি নয়, বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সম্মিলিত অনুমোদনের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই আলোচনার গতি ধীর করার একটি বড় কারণ।”
আস্থার সংকটই মূল বাধা
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা, সামরিক সংঘাত এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে সতর্ক করেছে। ফলে যেকোনও চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তেহরান এখন বহুমাত্রিক যাচাই-বাছাই ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের পথে হাঁটছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের ধীরগতি কেবল কূটনৈতিক কৌশল নয়, বরং অতীত যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোর সম্মিলিত প্রতিফলন। সূত্র: আল-জাজিরা
কিউএনবি/অনিমা/১৪.০৬.২০২৬/দুপুর ২.৪৪