অভিযোগ উঠেছে, মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) রাস্তা পার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যামাজনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হারপ্রীত গিল ও মায়া গ্যাংয়ের মাঝে কলহ বাধে। এর এক পর্যায় গুলি করে খুন করা হয় হারপ্রীতকে।
পুলিশ সূত্র বলছে, মঙ্গলবার রাতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা এলাকায় এক সংকীর্ণ গলি দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তার কলহ বাধে উল্টো দিক থেকে আসা মোটরসাইকেল আরোহীদের সাথে। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মারমুখী হয়ে উঠে মোটরসাইকেলে থাকা মায়া গ্যাংয়ের সদস্যরা।
এসময় গ্যাংয়ের এক সদস্য হারপ্রীতের চাচাকে চড় মেরে বসেন। ঘটনার এক পর্যায়ে গ্যাংয়ের লিডার মায়া ও তার সহযোগী বেলাল ভুক্তভোগীদের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ততক্ষণাত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হারপ্রীত গিল। চাচা গোবিন্দও গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে সিসিটভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে অপরাধীদের সনাক্ত করে দিল্লি পুলিশ। ধরা পড়ে মোহাম্মদ সামির ও বেলাল গনি। অন্য তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন, তারা হলেন- সোহেল (২৩), মোহাম্মদ জুনায়েদ (২৩) ও আদনান (১৯)।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্যাং লিডার সামির ওরফে মায়া উত্তর-পূর্ব দিল্লির একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী এবং এর আগে চারটি খুনের মামলায় জড়িত ছিল। তার এই গ্যাংয়ে কমপক্ষে এক ডজন সদস্য রয়েছে, ইনস্টাগ্রামে রয়েছে কমপক্ষে ২ হাজার ফলোয়ার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা বেশ কয়েকটি ছবিতে তাকে বন্দুক নিয়ে পোজ দিতে দেখা যায়। অপরিকে আটক আরেক সদস্য বেলালও ডাকাতি ও খুনের মামলার আসামি ছিল।
বলিউডের ক্রাইম-থ্রিলারগুলোর সাথে অনেকেই মিলে খুঁজে পেয়েছেন ঘটনাটির। এমনকি গ্যাংয়ের নামেও রয়েছে বলিউডের প্রভাব। জানা গেছে, বছর দুয়েক আগে গ্যাংস্টারদের নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘শুটআউট এট লোখান্ডওয়ালা’ দেখে অপরাধের দুনিয়ায় আসার সিদ্ধান্ত নেয় সামির। সিনেমার ‘মায়া’ চরিত্রটি তার নজরকাড়ে, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় তার মায়া গ্যাং। সামির এরপর থেকে নিজেকে মায়া ভাই নামেই পরিচয় দিয়ে আসছে।