আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, এদিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে নিজ প্রতিষ্ঠান সুলভ ইন্টারন্যাশনালের কেন্দ্রীয় অফিসে পতাকা উত্তোলনের সময় অসুস্থতা বোধ করেন তিনি। এরপর তাকে এইমসে ভর্তি করা হয়। এরপর তিনি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় মোদি লেখেন, ‘ ড. বিন্দেশ্বর পাঠকজির প্রয়াণ আমাদের দেশের জন্য এক বড় ক্ষতি। তিনি একটি পরিচ্ছন্ন ভারত গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন। তিনি স্বচ্ছ ভারত মিশনে বিশাল সহায়তা করেন। `আমাদের বিভিন্ন কথোপকথনের সময়, স্বচ্ছ্বতার প্রতি তার আবেগ সর্বদা দৃশ্যমান ছিল। তার কাজ বেশ কিছু মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার এবং প্রিয়জনদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।’
বিন্দেশ্বর পাঠকের জন্ম বিহারে। রাজ্যের বৈশালি জেলার রামপুরের বাঘেল গ্রামের সন্তান। আজ ভারতের রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন বা বাস টার্মিনালে ‘সুলভ শৌচালয়’ নামে যে পাবলিক টয়লেট দেখা যায়, ১৯৭০ এর দশকে তার সূচনা করেছিলেন পাঠক। পাঠকের প্রতিষ্ঠিত সমাজসেবামূলক সংগঠন ‘সুলভ ইন্টারন্যাশনাল’ মানবাধিকার ও পরিবেশের স্বচ্ছ্বতার মতো নানা বিষয় নিয়ে কাজ করে। সুলভ ইন্টারন্যাশনালের দাবি, ভারতের শহরাঞ্চলেই তাদের তৈরি ৯ হাজার পাবলিক টয়লেট আছে এবং প্রতিদিন দুই কোটি মানুষ এই টয়লেট ব্যবহার করে। গ্রামীণ এলাকাতে তারা গত ৫০ বছরে দেড় লাখেরও বেশি টয়লেট প্রতিষ্ঠা করেছে।
তবে সুলভের তৈরি সব পাবলিক টয়লেট কতটা পরিচ্ছন্ন ও সেগুলো কতোটা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়- তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তেমনিই পাঠক কথিত ‘পাবলিক টয়লেট বিপ্লব’ শুরু করার প্রায় ৫০ বছর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার স্বপ্নের ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ শুরু করার নয় বছর পরও ভারতে প্রকাশ্যে টয়লেট করা বন্ধ হয়নি।
যদিও ২০১৯ সালে ভারত সরকার ঘোষণা করেছিল যে, দেশে এখন কেউ আর প্রকাশ্যে প্রস্রাব-পায়খানা করে না। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ গত জুলাই মাসেই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের গ্রামীণ এলাকার ১৭ শতাংশ মানুষ এখনও প্রকাশ্যে যেখানে-সেখানে প্রস্রাব-পায়খানা করে।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ অগাস্ট ২০২৩,/রাত ১০:৫০