মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ডোমসারে বিএনপি নেতার হুকুমে জমি দখলের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্র মানুষের সেবার জন্যই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছেন- বান্দরবান লামায় পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান । আটোয়ারীতে একাধিক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন- এমপি ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ভূরুঙ্গামারীতে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত ‘ঘরের মাঠে বাংলাদেশ সেরা, আমরাও প্রস্তুত’ আটোয়ারীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় এখন নদী ভাঙন রোধ করা যাচ্ছেনা: বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ইরান যুদ্ধবিরতির দিকে যাচ্ছে না: গালিবাফ ব্রাজিলে ফুটবল ম্যাচে ‘কুংফু’, রেফারি দেখালেন ২৩ লাল কার্ড ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কী? সাদ্দামের পরিণতি দেখে কেন এই কৌশল নেয় ইরান

নড়িয়ায় বিদ্যালয় ভবনে পুলিশ ফাঁড়ি আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০২৩
  • ৯৭ Time View

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : বিদ্যালয় ভবনের দোতলায় পুলিশ ফাঁড়ি আর নীচতলায় চলে পাঠদান। পুলিশের নানা কার্যক্রমের সময় শিশুরা ভীতসন্তস্ত্র হয়ে পাঠদানে অংশ নেয়। রয়েছে শ্রেণী কক্ষের সংকট। ২০ বছর ধরে এভাবে চলছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ১১১ নং উত্তর হালইসার গোয়ালবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কার্যক্রম।পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর ২০০৩ সালে বিদ্যালয় ভবনে স্থানান্তর করা হয় সুরেশ্বর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। গত ২০ বছরেও তারা ভবনটি ছেরে দেননি।শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের হালইসার এলাকায় হালইসার গোয়ালবাথান প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। প্রথম দিকে একটি টিনসেডের ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলত। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সরকারি একটি প্রকল্পের আওতায় ২০০২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য দ্বিতল একটি ভবন নির্মাণ করে। ভবনের প্রতি তলায় ৪টি করে কক্ষ নির্মাণ করা হয়।পদ্মা নদীর তীরে সুরেশ্বর বাজারে সুরেশ্বর নৌপুলিশ ফাঁড়ি ছিল। ২০০২ সালে পদ্মার ভাঙনে তা বিলীন হয়ে যায়। এর পর ওই বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দুরত্বে হালইসার গোয়ালবাথান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার চারটি কক্ষে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম সরিয়ে আনা হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৪৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রাক প্রাথমিক শ্রেনী হতে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান দিতে ৪টি শ্রেনী কক্ষ, শিক্ষকদের জন্য একটি কক্ষ, প্রধান শিক্ষকের জন্য একটি কক্ষ ও একটি ষ্টোর রুম প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যালয়ের দোতলাটি নৌপুলিশের দখলে থাকায় নীচ তলার চারটি কক্ষে সকল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নৌপুলিশ যখন অভিযান চালায় তখন একসাথে অনেক আসামী ধরে আনেন। তাদের বিদ্যালয়ের বারান্দায় রাখা হয়। অনেক সময় বিদ্যালয়ের বারান্দায় অনেক আসামীকে বেঁধে রাখা হয়। আসামীদের চিৎকার- চেচামেচিতে শিশুরা ভয় পায়। তখন শ্রেনী কক্ষের দরজা-জানালা বন্দ করে পাঠদান করাতে হয়।বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জামসেদ আলী বলেন, পুলিশের কাজ অপরাধিদের নিয়ে। অপরাধি ধরে আনার সময় নানা ধরণের আচরণ করা হয়। যা দেখে শিশুরা ভয় পায়। আতকে ওঠে। এতে বাচ্চাদের মানসিক প্রভাব পরে। আসামীদের বিদ্যালয়ের বারান্দায় বেঁধে রাখা হয়, তারা পালানোর চেষ্টা করেন। তখন হুলুস্থুল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

উত্তর হালইসার গোয়ালবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের নীচতলার দুটি কক্ষে ও ষ্টোর রুমে পাঠদান করানো হচ্ছে। একটি কক্ষে শিক্ষকদের বসার ব্যবস্থা। আর দোতলার চারটি কক্ষের একটিতে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিস কক্ষ। আর তিনটি কক্ষের মধ্যে তাদের মালামাল ও রাত্রী যাপন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই তিনটি কক্ষের একটিতে ফাঁড়ির ইনচার্জ ও দুটি কক্ষে পুলিশের ১২ সদস্য থাকেন।পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সোহাগী আক্তার ও আল হাসান জানায়, পুলিশ যখন কোন আসামী ধরে বেঁধে নিয়ে আসে তখন তারা ভয় পায়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যালয় ভবন থেকে পুলিশ ফাঁড়ি সরিয়ে নেয়ার অনেক তাগিদ দিয়েছি। নৌপুলিশের এসপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে অনেক বার চিঠি দিয়েছি। কোন ফলোদয় হয়নি। এভাবে একই ভবনে পুলিশ ফাঁড়ি ও স্কুলের কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা নিরুপায়। এলাকার অনেক সচেতন অভিভাবক তাদের সন্তানদের আমাদের স্কুলে ভর্তি করান না। যার কারণে বিদ্যালয়টিতে কাঙ্খিত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।

শরীয়তপুর জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি আর বিদ্যালয় একই ভবনে চালানো হচ্ছে ২০ বছর ধরে। এটা জেনে অবাক হয়েছি। এমন পরিস্থিতিতে মানসম্মত পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। আমরা বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কোন পক্ষই পুলিশ ফাঁড়ি সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ভূমিকা নিচ্ছেন না।নৌপুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের হাতে কোন বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়ের ভবনের দোতলায় পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পদ্মা নদীর তীরে সুরেশ্বর বাজারের পাশে একটি জমি অধিগ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে ভবন নির্মাণ হলে আর কোন সমস্যা থাকবে না।ওই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা একটি ভাড়ার বাড়ি খুঁজতেছি। তা পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয় থেকে পুলিশ ফাঁড়ি সরিয়ে নেয়া হবে।

কিউএনবি/অনিমা/৯ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৪:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit