শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন জেকো কলমাকান্দায় আগুনে পুড়লো ছয়টি কাপড়ের দোকান  গোলাপগঞ্জে ভূয়া প্রেসক্লাব কমিটি, বিভ্রান্তি না হওয়ার আহ্বান মূলধারার সাংবাদিকদের এশিয়ান গেমসে ভারতের কোচের দায়িত্বে ভিভিএস লক্ষ্মণ ঢাবির মুহসীন হল থেকে গুমের ৭ বছর পার হলেও ন্যায়বিচার পাননি কোটা আন্দোলনের নেতা জালাল সন্তান গোপনে আপত্তিকর ভিডিও দেখার আগেই যেভাবে সাজাবেন ফোনের সেটিংস র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে প্রবাসীদের সঞ্চয় থেকে চলতি মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে ইরান ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ বলল চীন পুরোনো মুখ ভুলে নতুনদের দেখেই খুশি ‘হ্যারি পটার’ ভক্তরা

চৌগাছায় ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন কৃষক, লাভ জনক হওয়ায় চাষ বাড়ছে

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
  • Update Time : শনিবার, ৫ আগস্ট, ২০২৩
  • ১৭৭ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন চাষীরা। লাভজনক হওয়ার ফলে বাড়ছে ড্রাগন চাষ। কয়েক বছর আগেও উপজেলার মানুষ ড্রাগন ফল চিনতো না। বিদেশী ফল হিসেবেই এটি পরিচিত ছিল। ভি আই পিদের নাস্তার টেবিলে মাঝে মাঝে দেখা মিলত এ ফলটির। তখন দামও ছিলো বেশ চড়া। বর্তমানে উপজেলার সেরা মানের ফলের দোকান থেকে শুরু করে ছোট-বড় বাজার, এমনকি রাস্তার ধারেও বসে বিক্রি করছেন সুস্বাদু এই ড্রাগন ফল।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ৪৫ হেক্টর জমি থেকে বর্তমানে উপজেলায় ড্রাগন চাষের জমি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ হেক্টরে। যাতে ড্রাগন উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪শ মেট্টিক টন। কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শে কৃষকরা ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় নতুন নতুন কৃষক তৈরি হচ্ছেন। চাষে খরচ কম ও লাভ বেশী হওয়ায় এর চাষ সম্প্রসারণ ঘটছে। প্রথম দিকে ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহী ছিলেন না কৃষকরা। এছাড়া নানান প্রতিবন্ধকতাও ছিলো। উপজেলায় গত কয়েক বছরে ড্রাগন ফলের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩০ গুণ।

 

জানা যায়, উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের আড়সিংড়া গ্রামের শিক্ষিত যুবক ইসমাইল হোসেন প্রথমে নিজ উদ্যোগে এই বিদেশি ফলের চাষ শুরু করেন। পরে মানসম্মত উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু হয়। ধীরে ধীরে এর ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। অন্যান্য ফসল চাষের চেয়ে লাভ জনক হওয়ায় ধীরে ধীরে কৃষকরা ঝুঁকেছেন ড্রাগন চাষের দিকে। উদ্যোগী হয়েছেন সরকারও।কৃষি উপসহকারি কর্মকর্তা চাদ আলী বলেন, আগে কৃষি সসম্প্রারণ অফিস থেকে কৃষকদের ফল চাষের জন্য উৎসাহিত করা হত। এখন বেশির ভাগ কৃষকই নিজ উদ্যোগে ড্রাগনের চাষ করছেন। তবে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে ড্রাগনের চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা। তবে ড্রাগন ফলে টনিক ব্যবহার চাহিদার উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

ড্রাগন চাষী বিএম বাকী বিল্লাহ জানান, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় কম বেশি ড্রাগন ফলেরচাষহচ্ছে। তবে পাতিবিলা, হাকিমপুর, নারায়ণপুর, স্বরুপদহ ও জগদিশপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ড্রাগন ফলেরচাষ হচ্ছে। চাষী বাকি বিল্লাহ জানান, আমার ১০ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ রয়েছে। এ বছর নতুন করে দুইবিঘা জমিতে বাগান করেছেন। নতুন বাগানে বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। সঠিক পরিচর্চা করতে পারলে এক বিঘা জমি থেকে প্রথম বছরেই ৪ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করা যায়।

সিংহঝুলি গ্রামের ড্রাগন চাষী প্রবাসী আল হেলাল মিঠু বলেন, উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন তিনি। তার নতুন পুরাতন মিলে ২০ বিঘা জমিতে ড্রাগন বাগান রয়েছে। পুরাতন বাগানে খরচ বাদ দিয়ে বছরেকম পক্ষে ২ লাখ টাকা লাভ হয়। সে হিসেবে এবছরে ২০ বিঘা জমিতে ৪০ লাখ টাকা লাভ হবে। এ বছরে মানভেদে ড্রাগনের পাইকারি বাজার দর ৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের ড্রাগন চাষী বাদশা মিয়া, পাতিবিলা গ্রামের আইনাল মন্ডলের ছেলে আক্তার হোসেন, নাসির উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসেন, মাঠচাকলা গ্রামের জাহিদ হোসেন, খড়িঞ্চা নওদাপাড়া গ্রামের ড্রাগণ চাষী মামুন হোসেন, জানান বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা, তাই ফল বিক্রি উপযোগী হলে ব্যাপারী ক্ষেতে এসে কিনে নিয়ে যায়। এ জন্য বিক্রির জন্য কোনো বাড়তি ঝামেলা নেই। ড্রাগনে পোকার আক্রমণ কম তবে গাছের গোড়াপচার রোগ দেখা দেয়। এ সময়ে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করলে গাছকে রক্ষা করা যায়। গাছে ফল ধরার পর দেড় মাস পরেই বিক্রি করার উপযোগী হয়। অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে ড্রাগন একটি লাভজনক এবং ঝুকি মুক্ত চাষ।

চিকিৎসকরা বলছেন, ড্রাগন ফলের অনেক উপকারিতা রয়েছে। ফলটি ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ। ড্রাগন ফল খেলে হজমে সহায়তা করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন বলেন, ড্রাগন চাষ লাভজনক হওয়ার কারণে প্রতি বছরই চাষ বাড়ছে। কৃষকরা যাতে এ ধরনের ফসলের চাষ আরও আগ্রহী হয়ে উঠেন সে লক্ষে কৃষি অফিস নিয়মিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কিউএনবি/অনিমা/০৫ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৫:২৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit