রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

সন্তানকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শেখাতে করণীয়

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৯৪ Time View

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : একটি শিশু জন্মের পর থেকে বাড়িতে যা খায় বা দেখে, সেসবেই সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। বাচ্চার পেছনে সবজির থালা হাতে দৌড়ানোর অভিজ্ঞতা সব বাবা-মায়েরই হয়। 

বাচ্চারা সব সময়ই অনুকরণপ্রিয়। বড়রা কখন কী খাচ্ছে তারা কিন্তু সবই লক্ষ্য করে। আমরা যখন অসময়ের খিদেয় চিপস মুখে পুরি কিংবা রাত দুপুরে চকলেটে কামড় বসাই- কোনো কিছুই বাচ্চাদের চোখ এড়ায় না। সমস্যা হলো, যখন তারা আমাদের অসময়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে দেখে, তখন তারা ভেবে নেয় এটা দোষের কিছু নয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা-মায়েরা কী খাচ্ছেন তা দেখে দেখেই খেতে শেখে বাচ্চারা। তাই বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াতে হলে আগে আমাদের বদলাতে হবে নিজেদের খাদ্যাভ্যাস। তাই শুরু থেকেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।অতিরিক্ত ওজনের শিশু

বেশিরভাগ অতিরিক্ত ওজনের শিশুর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তারা প্রথমেই মিষ্টি, ফ্যাট এবং পুষ্টিগুণ কম এমন খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করে। পাশাপাশি হয়তো খেলাধুলার দিকেও তেমন আগ্রহ থাকে না। শিশুরা কিন্তু এই অভ্যাসগুলো পরিবার থেকেই পায়৷ এর ফলে পরে শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগ।

>> বয়স দুই বছরের কম হলে শিশুর পর্যাপ্ত বদ্ধির জন্য প্রয়োজন ফুল ক্রিম দুধ। বয়স দুই পার হলে ওকে আস্তে আস্তে পাস্তুরিত বা একটু কম ক্রিমযুক্ত দুধ দেওয়া শুরু করা যায়।

>> শিশুদের বিভিন্ন বয়সে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের প্রয়োজন। আর তা শুরু করতে হয় শিশু বয়স থেকেই৷ যেমন পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুকে কখনো লো -ফ্যাট খাবার বা অতিরিক্ত আঁশযুক্ত বা চর্বিজাতীয় খাবার দেওয়া উচিত নয়।

>> পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে কম ফ্যাটযুক্ত দুধ এবং আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

>> বাড়ন্ত শিশুদের প্রয়োজন অনেক বেশি প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম। বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের মাছ এবং চর্বি ছাড়া লাল মাংসের প্রয়োজন একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর প্রায় সমান।

>> মেয়েদেরও সব খাবারই খেতে হবে, তবে পরিমাণে কিছুটা কম। মেয়েদের অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণে আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে।

যা করবেন না

শিশুকে কখনো বলা উচিত নয় যে, ভালো ব্যবহার করলে বা লক্ষ্মী হয়ে বসে থাকলে তাকে পুরস্কার হিসেবে চকলেট দেওয়া হবে৷ কারণ শিশুদের স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চকলেট দেয়া একেবারেই উচিত নয়।

মিষ্টি বা আইসক্রিম

শিশু তার খাবারটা খেতে না চাইলে অনেক মা বা বাবাকে বলতে শোনা যায়, খাবার শেষ করলে চকলেট, মিষ্টি বা ডেজার্ট দেয়া হবে। এই কাজটিও করা উচিত নয়, কারণ, শিশুরা তখন ভাবতে শুরু করে যে, প্রধান খাবারের চেয়ে ‘মিষ্টি’ খাবারই বেশি জরুরি।

শিশুকে ধীরে ধীরে জানিয়ে দিন

শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা নয়, এর পাশাপাশি শিশুকে জানিয়ে দিন, কী খেলে শরীরে কী হয় আর না খেলে কী ক্ষতি হতে পারে। এতে ওরা ছোটবেলা থেকেই বুঝতে শিখবে স্বাস্থ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে।

ঘরে রান্না খাবার

সম্ভব হলে ছুটির দিনে বাচ্চাদের সাথে নিয়ে রান্না করুন এবং ঘরে রান্না করা খাবার কত স্বাদ এবং কতটা স্বাস্থ্যকর তা খাবার টেবিলে সবাই মিলে আনন্দ করে খাওয়া উপভোগ করে বুঝিয়ে দিন।

পরিবর্তন হতেই পারে

তবে বাইরের খাবার একদমই খাওয়া যাবে না, তা কিন্তু নয়! তাছাড়া মাঝেমধ্যে সকলেরই পরিবর্তন কিছুটা প্রয়োজন, তাই শিশুদের নিয়ে অবশ্যই বাইরের খাবার খাওয়া যেতে পারে। তবে তা যেন নিয়মিত না হয়৷ অনেক সময় শিশুদের কোনো কিছু ‘না’ করলে তার প্রতি ওদের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।

পানীয়

পিপাসা মেটাতে কোকাকোলা বা ফান্টা জাতীয় মিষ্টি খাবার না দিয়ে প্লেন পানি পান করার অভ্যাস করানো ভালো। প্রয়োজনে ফলের রস করে দিতে পারেন কিংবা মিল্কশেক বা দুধের তৈরি কোনো ড্রিংক৷ এই পরামর্শগুলো দিয়েছেন পরিবার বিষয়ক মনোবিজ্ঞানী ডা. মাথিয়াস পেটসেল্ড।

কিউএনবি/অনিমা/২০ এপ্রিল ২০২৩,/সকাল ৭:৫৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit