মিজানুর রহমান মিন্টু,জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাট সুগার মিলে উৎপাদিত শ্রমিকদের রেশনের বরাদ্দের চিনি কারসাজি করে অবৈধ ভাবে বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রেশনের বরাদ্দকৃত চিনি পাচ্ছে না শ্রমিক কর্মচারীরা। এ নিয়ে চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ। অভিযোগ উঠেছে মিলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাসির উদ্দিন ও রেশন করনিক আবদুর রহমানের যোগসাজসে শ্রমিক-কর্মচারীদের বরাদ্দের চিনি চলে যাচ্ছে কালোবাজারে। সেখানে চরা মূল্য বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে চিনিকলের একটি অসাধু চক্র ফলে বঞ্চিত হচ্ছে শ্রমিক কর্মচারীরা। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছে ওই দুই কর্মকর্তা।চিনিকল সূত্রে জানাযায়, জয়পুরহাট চিনিকলের স্থায়ী শ্রমিক কর্মচারী জনপ্রতি মাসে রেশনের মাধ্যমে মিলগেট মূল্যে ৪ কেজি ও মৌসুমী শ্রমিকরা ২ কেজি করে বরাদ্দে চিনি ক্রয় করতে পারবেন।
আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে অনেক শ্রমিক কর্মচারী বরাদ্দকৃত সেইসব চিনি ক্রয় করেননা। আর এই সুযোগ নেন চিনিকলে কিছু অসাধু কর্মকর্তারা। যার ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল উত্তোলন করা হয় ২ টন চিনি। খোজ নিয়ে জানাযায় তার কিছুই পাননি শ্রমিক কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরর কাছে চড়া মূল্যে তাদের রেশনের বরাদ্দের চিনি অবৈধ ভাবে বিক্রি করা হচ্ছে।সুগার মিলের শ্রমিক আজমল হোসেন টুকু বলেন, নিয়মিত ও মৌসুমি শ্রমিককর্মচারীদের নামে চিনি বিক্রি দেখানো হলেও সেই চিনি চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীর গোডাউনে। যে সময় চিনির মূল্য কম ছিল, তখন বেতনের টাকার পরিবর্তে মিল কর্তৃপক্ষ চিনি নিতে বাধ্য করাতো। আর এখন চিনির মূল্য বৃদ্ধি হওয়ার সাথে সাথে তাদের রেশনের নামে বরাদ্দের চিনি নিয়ে শুরু হয়েছে কারসাজি।

জয়পুরহাট পৌর শহরের স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী সিতারাম সাহা বলেন, সুগার মিলের লোকের কাছ থেকেই তিনি নিয়মিত চিনি কিনেন, তবে কাদের নামে বরাদ্দের চিনি কিনছেন সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।এ বিষয়ে চিনিকলের রেশন বিভাগের করনিক আব্দুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি চিনি বিক্রির কারসাজি ও অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই চিনি দেয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম বা কারসাজি করে রেশনের চিনি দেয়া হয়নি।

চিনিকলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাসির উদ্দিন জানান, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি শ্রমিক-কর্মচারীর বিষয়টি এড়িয়ে আখচাষীদের বিভিন্ন দূর্বলতা নিয়ে কথা বলতে থাকেন।জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমানের নিকট এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোট খাটো কিছু অনিয়ম হতেই পারে। তবে ববে কোন কারসাজির ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্য প্রমানিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিউএনবি/অনিমা/১২ এপ্রিল ২০২৩,/দুপুর ১:৩১