মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

দুই পুরুষ ইঁদুর থেকে সন্তান জন্ম দিলেন বিজ্ঞানীরা!

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০২৩
  • ১০০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপানের বিজ্ঞানীরা পুরুষ ইঁদুরের কোষ থেকে ডিম্বাণু তৈরি করেছেন এবং স্বাস্থ্যবান ইঁদুর শাবকের জন্মও দিতে সক্ষম হয়েছেন।

বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল ন্যাচারে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপত কাতসুহিকো হায়াশি।

গবেষণাপত্রের পাশাপাশি একটি ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির স্টেম সেল এবং প্রজনন বিশেষজ্ঞ ডায়ানা লেয়ার্ড এবং তার সহকর্মী জোনাথন বায়ের্লের একটি মন্তব্যও প্রকাশ হয়েছে। তাদের মতে এই গবেষণাটি ‘প্রজনন গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে’।

ভবিষ্যতে হুমকির মুখে থাকা স্তন্যপায়ী প্রজাতিগুলোর ক্ষেত্রে একটি একক পুরুষ প্রাণী থেকেই সন্তান জন্মদান সম্ভব হতে পারে।

তারা লিখেছেন, ‘‘সমকামীদের ক্ষেত্রে অন্যের ডিম্বাণু ব্যবহারের নৈতিক এবং আইনি সংকট এড়িয়ে নিজেদের সন্তান জন্মদানের সুযোগও তৈরি করছে এই গবেষণা।”

হায়াশি অবশ্য বলছেন, এই গবেষণা এখনও একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গত সপ্তাহে লন্ডনের ক্রিক ইনস্টিটিউটে জিন এডিটিং সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘ইঁদুর এবং মানুষের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে।”

দীর্ঘদিনের গবেষণা

২০১৮ সালে এক চীনা গবেষণায় দুই নারী ইঁদুর থেকে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু পুরুষ ইঁদুর থেকে সন্তান জন্ম দিতে পারলেও তাদের বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

জাপানের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় একটু ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। তাদের গবেষণায় পুরুষ ইঁদুর থেকে জন্ম দেয়া সন্তান স্বাভাবিকভাবে বড় হয়েছে, নিজেরাও সন্তান জন্ম দিয়েছে।

এই পদ্ধতিতে প্রথমে পুরুষ ইঁদুরের লেজ থেকে একটি কোষ নেয়া হয়েছে। এরপর সেই কোষকে স্টেম সেলে রূপ দেয়া হয়েছে।

এরপর পুরুষ ইঁদুরের সেই স্টেম সেলকে নারী কোষে, তারপর সেটিকে ডিম্বাণুতে রূপান্তর করা হয়েছে। এরপর সেই ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে এক নারী ইঁদুরের গর্ভে স্থাপন করা হয়েছে।

মানুষের ওপর গবেষণা এখনও অনেক দূর

গবেষণাটি এখনও একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং যে পদ্ধতি এখানে অনুসরণ করা হয়েছে সেটা এখনও অনেক অপর্যাপ্ত।

গবেষণায় ৬৩০টি ভ্রুণ নারী ইঁদুরের গর্ভে স্থাপন করা হলেও কেবল এর সাতটি থেকেই সন্তান জন্ম দেয়া গেছে।

কেন এত অল্প সংখ্যক ভ্রুণ বাঁচলো সেটি এখনও গবেষকেরা নিশ্চিত হতে পারেননি। মানুষের স্টেম সেলে কিভাবে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সেটিও নিশ্চিত নন গবেষকেরা।

জিনের পরিবর্তন ঘটানোর প্রক্রিয়ায় ভুল বা অন্য কোনো কারণে যেসব জটিলতা তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্ক থাকার ওপর জোর দিয়েছেন লেয়ার্ড।

সূত্র ডয়চে ভেলে

কিউএনবি/অনিমা/১৬ মার্চ ২০২৩,/রাত ১১:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit