স্পোর্টস ডেস্ক : ঢাকার লিগের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল সত্তরের দশকে। ১৯৭৩-৭৪ সালে পথচলা হলেও লিস্ট-এর মর্যাদা পায় ২০১৩-১৪ মৌসুমে এসে। সেই থেকে এখন অবধি সাতটি আসর মাঠে গড়িয়েছে। আবাহনী তিনবার পেয়েছে শিরোপা জয়ের স্বাদ। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স দুইবার আর একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। কিন্তু ঢাকার ঐতিহ্যবাহি দল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একবারও শিরোপা জিততে পারেনি।
সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর চেষ্টা গত বছর থেকে শুরু করেছে মোহামেডান। তারকায় ঠাসা দল গড়েছিল। প্রায় ৮ কোটি টাকায় খরচায় তারা দলে ভিড়িয়েছিল সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো ক্রিকেটারদের। রিয়াদ শেষ পর্যন্ত খেলতে পারলেও দলটির জার্সি গায়ে জড়াতে পারেননি মুশি ও সাকিব।
শিরোপা জিততে মরিয়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবারও দলে ভিড়িয়েছে তারকা ক্রিকেটারদের। আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। আজ তাদের নিয়ে হয়ে গেছে জার্সি উন্মোচন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন টাইগারদের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেল এবারও সাকিবকে পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটির কর্মকর্তারা অবশ্য আশা করছেন সুপার লিগে সাকিবকে পাওয়া ব্যাপারে আশাবাদি তারা। যে আশা গত বছরও করেছিল তারা। কিন্তু কাড়িকাড়ি টাকা খরচ করে তারকায় ঠাসা দল গড়লেও সুপার লিগের আগেই বিদায় নিতেই মোহামেডানকে। তাই সাকিবও নাম লেখান মাশরাফীর দলে।
সেই প্রসঙ্গ উঠেছিল আজ জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষেও। এর জবাবে সাকিব বলেন, ‘গত বছর মোহামেডানের অনেক ক্রিকেটার খেলতে পারেনি। আমরা অনেকেই ব্যস্ত ছিলাম জাতীয় দলের সফর সূচিতে। তবে আশা করছি এবার আমরা দল হিসেবে খেলতে পারব, এবং ভালো একটা ফল এনে দিতে পারব। যে সফলতাটা মোহামেডান অনেকদিন ধরেই চাচ্ছে।’
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়াচ্ছে আগামী ১৫ মার্চ থেকে। তার আগের দিন পর্যন্ত জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ব্যস্ত থাকবেন ইংল্যান্ডের সঙ্গে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ইংলিশ মিশন শেষেই মাঠে গড়াবে আয়ারল্যান্ড সিরিজ। পূর্ণাঙ্গ এই সিরিজটি শেষ হবে আগামী ৮ এপ্রিল। সাকিবসহ জাতীয় দলে থাকা ক্রিকেটাররা ততদিন সেখানেই ব্যস্ত থাকবেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টেস্টে ও মুশফিকুর রহিম টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ায় এ দুজনকে ঐ সময়টাতে পেতে পারে।
তবে শঙ্কা থেকে যাচ্ছে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাকিব তুলে ধরলেন তার বাস্তবতার কথা, ‘যেহেতু জাতীয় দলের খেলা আছে। সঙ্গে আইপিএলেও একটা কমিটমেন্ট আছে। তাই সময়টা একটু কঠিন। এর ফাঁকে যতটুকু সময় পাওয়া যাবে, চেষ্টা করব খেলার।’
তবে এক ম্যাচ খেলে, বাকি ম্যাচ খেলতে না পারা বিষয়টাকে ভালো চোখে দেখছেন না সাকিব নিজেও, ‘দেখুন এটা খুব একটা দিক না। তারপরও এখন সময়ের স্বল্পতা এবং সিচুয়েশনের কারণে এটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে সবাই যেহেতু প্রফেশনার ক্রিকেটার। তাই প্রত্যেকে নিজেদের জায়গা থেকে নিজেদের সেরাটা উজার করে দেবে।’
কিউএনবি/আয়শা/১১ মার্চ ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:২৫