বিনোদন ডেস্ক : অধুনা বাংলাদেশের বিক্রমপুরের মুন্সিগঞ্জে ১৯২০ সালে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। সেখানেই প্রাথমিক শিক্ষালাভ। ছেলেবেলা থেকেই কৌতুক ছিল তাঁর অত্যন্ত প্রিয় একটি বিষয়। তাইতো অভিনয় জগতে কৌতুক সম্রাটও আখ্যা দেওয়া হত তাকে। দেশভাগের অনেক আগেই ঢাকা থেকে কলকাতায় পালিয়ে আসেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। সালটা ১৯৪১। সেসময় কলকাতায় এসে আয়রণ এন্ড স্টিল কোম্পানিতে কাজে যুক্ত হন। তারপর অভিনয় জগতে আসা। নিয়মিত থিয়েটার চর্চা ছিল তার প্রথম ভালোবাসা। তবে শুধু কৌতুক নয় সিরিয়াস চরিত্রেও দর্শক পেয়েছেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার অভিনীত ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধান’ যারা দেখেছেন তারা জানেন।
কলকাতায় টালিগঞ্জে ৪২ নং চারু এভিনিউতে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাটালেও আজীবন নিজেকে ‘ঢাকার পোলা’ হিসেবেই পরিচয় দিতেন। তার মুখের সংলাপ বাংলা ছবির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। আজও কথাপ্রসঙ্গে সেসব সংলাপ ঘুরেফিরে ব্যবহার করেন এখনকার শিল্পীরা। সাম্যময় থেকে ভানু হয়ে ওঠাটা নিস:ন্দেহে কোনও ছায়াছবির থেকে কম ছিল না। আজও সাদা-কালো পর্দায় তার উজ্জ্বল উপস্থিতি, হাস্যরসে মোড়া প্রতিটি সংলাপ, চোখের সেই কৌতুক চাউনি আকৃষ্ট করে আপামর দর্শককে।
তবে বাস্তবে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ভয়ঙ্কর রাসভারি মানুষ। সেকথা একাধিকবার জানিয়েছেন তাঁর ছেলে গৌতম বন্দোপাধ্যায় এবং মেয়ে বাসবী ঘটক। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তাদের সবসময় বলতেন, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে-মেয়ে তো কি হয়েছে, নিজে খেটে যদি কিছু করা যায়, তাহলে তাই করতে। বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ের গল্প প্রায়শই নাকি শোনাতেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। ছায়াছবিকে কৌতুকে ভরিয়ে দিলেও ব্যক্তিগত জীবনে নাকি গম্ভীর একজন মানুষ ছিলেন। সেকথা ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই যদিও জানেন। বলেও থাকেন।
কিউএনবি/আয়শা/০৪ মার্চ ২০২৩,/বিকাল ৫:২৪