মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

ধর্মীয় আলোচনার জন্য বিশেষ কিছু বৈঠক

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ১০৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : প্রতিদিনই আমাদের মিটিং, মজলিস ও বৈঠকে মিলিত হতে হয়। কিন্তু ইসলাম চায় মুমিমের কিছু বৈঠক হোক শুধু দ্বিনি আলোচনার জন্য। আল্লাহ বলেন, ‘আর তুমি নিজেকে ধরে রাখো তাদের সঙ্গে, যারা সকালে ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে আহ্বান করে তাঁর চেহারার কামনায় এবং তুমি তাদের থেকে তোমার দুই চোখ ফিরিয়ে নিয়ো না—পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায়। আর তুমি ওই ব্যক্তির আনুগত্য কোরো না, যার অন্তরকে আমি (আল্লাহ) আমার স্মরণ থেকে গাফিল করে দিয়েছি এবং সে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে ও তার কার্যকলাপ অতিক্রম করে গেছে।

(সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৮)

এ আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর জিকিরের মজলিসে অবস্থান করলে ঈমান বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে আল্লাহ থেকে উদাসীন ব্যক্তিদের মজলিসে অবস্থান করলে ঈমান হ্রাসপ্রাপ্ত হয়।

দ্বিনি আলোচনার বৈঠকগুলোকে মহান আল্লাহ তাঁর রহমত দিয়ে ঘিরে রাখেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন একদল বান্দা আল্লাহর গৃহগুলোর কোনো একটি গৃহে সমবেত হয় এবং আল্লাহর কিতাব পাঠ করে ও নিজেদের মধ্যে তা পর্যালোচনা করে, তখন (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাদের ওপর বিশেষ প্রশান্তি নাজিল হয়। আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাদের কথা আলোচনা করেন তাদের মধ্যে, যারা তাঁর কাছে থাকে (অর্থাৎ নৈকট্যশীল ফেরেশতামণ্ডলীর কাছে)। আর যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার উচ্চবংশ তাকে এগিয়ে দিতে পারে না। (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম অহি লেখক হানজালা বিন রবি আল-উসাইয়েদি (রা.) বলেন, ‘আবু বকর আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। অতঃপর বললেন, হে হানজালা! তুমি কেমন আছ? আমি বললাম, হানজালা মুনাফিক হয়ে গেছে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! সেটা কি? আমি বললাম, আমরা যখন আল্লাহর রাসুলের কাছে থাকি এবং তিনি আমাদের সামনে জাহান্নাম ও জান্নাতের আলোচনা করেন, তখন আমরা যেন সেগুলো চোখের সামনে দেখি। কিন্তু যখন আমরা তাঁর কাছ থেকে বেরিয়ে যাই এবং স্ত্রী-সন্তানাদি ও পেশাগত কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ি, তখন আমরা অনেক কিছু ভুলে যাই। আবু বকর (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমারও এমন অবস্থা হয়। তখন আবু বকর ও আমি রওনা হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে হাজির হলাম। আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসুল! হানজালা মুনাফিক হয়ে গেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সেটা কিভাবে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যখন আপনার কাছে থাকি এবং আপনি আমাদের কাছে জাহান্নাম ও জান্নাতের আলোচনা করেন, তখন আমরা যেন সেগুলো চোখের সামনে দেখি। কিন্তু যখন আমরা আপনার কাছ থেকে বেরিয়ে যাই এবং স্ত্রী-সন্তানাদি ও পেশাগত কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ি, তখন আমরা অনেক কিছু ভুলে যাই। তখন রাসুল (সা.) বলেন, যার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম করে বলছি, যদি তোমরা সর্বদা ওইরূপ থাকতে, যেরূপ আমার কাছে থাকো এবং সর্বদা জিকিরের মধ্যে থাকতে, তাহলে নিশ্চয়ই ফেরেশতারা তোমাদের বিছানায় ও তোমাদের রাস্তায় করমর্দন করত। কিন্তু হে হানজালা! একটি অবস্থা অন্য অবস্থার কাফফারা মাত্র। কথাটি তিনি তিনবার বলেন। (মুসলিম, হাদিস : ২৭৫০)

অর্থাৎ কখনো স্মরণ করায় ও কখনো ভুলে যাওয়ায় তুমি মুনাফিক হবে না। বরং এই আল্লাহভীরুতাই তোমার মুমিন হওয়ার বড় নিদর্শন। এতে বোঝা গেল যে সর্বদা ঈমান বৃদ্ধির মজলিসে থাকার চেষ্টা করতে হবে। নইলে ঈমান হ্রাসপ্রাপ্ত হবে। মাঝেমধ্যেই ধর্মীয় আলোচনায় অংশগ্রহণ ঈমান বৃদ্ধির কারণ।

সাহাবায়ে কেরাম নিজেরা পরস্পর দ্বিনি আলোচনা করতেন। মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) একদিন তার সাথি আসওয়াদ বিন  হেলালকে বলেন, ‘তুমি আমাদের সাথে বসো। কিছুক্ষণ আমরা ঈমানের আলোচনা করি। ’ অতঃপর তাঁরা উভয়ে বসলেন এবং আল্লাহকে স্মরণ করলেন ও প্রশংসা করলেন। ’ (ফাতহুল বারী, ‘ঈমান’ অধ্যায় ১/৪৮)

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:৪৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit