রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২১ Time View

ডেস্ক নিউজ : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

রবিবার ঢাকার সেনানিবাসে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, দক্ষ ও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, পিজিআর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার ইউনিট। রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, বিদেশি অতিথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেশের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ইউনিটটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।

পিজিআরের সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড নিরাপত্তা হুমকি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং সর্বক্ষণিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে পিজিআর ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও পিজিআরের সদস্যদের সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের ঘটনায় পিজিআরের পাঁচ সদস্যও জীবন উৎসর্গ করেন। তারাসহ দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন এবং রেজিমেন্টের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান, বঙ্গভবনের সচিব, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পিজিআরের কমান্ডার এবং সর্বস্তরের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

কিউএনবি/অনিমা/০৫.জুলাই.২০২৬/বিকাল ৩.৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit