আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভ্রমণের জন্য ইউরোপের দেশগুলো সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই আকর্ষণীয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়ে বেশ কয়েকটি গন্তব্য রয়েছে, যেগুলো বেশ রোমাঞ্চকর। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বাছাইয়ে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আকর্ষণীয় পাঁচটি গন্তব্য রয়েছে। এই জায়গাগুলোর মধ্যে সুন্দর দর্শনীয় স্থান, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্প্রদায় রয়েছে।
অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার জন্য এই গন্তব্যগুলো হলো :
কার্পাথোস, গ্রিস
এটি দক্ষিণ-পূর্ব এজিয়ানের একটি দ্বীপ। বিচ্ছিন্নতার কারণে সেখানে উপভাষা ব্যবহার করা হয়। দ্বীপটির ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং রীতিনীতি রয়েছে। এই দ্বীপের সেরা কিছু জায়গার মধ্যে দুটি হলো মেনেটেস ও অলিম্পোস। মেনেটেস একটি ৩০০ মিটার উচ্চতার পাহাড়। সেখানকার সাদা এবং প্যাস্টেল রঙের ঘরগুলো এমনভাবে সাজানো রয়েছে, যা দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে।
অন্যদিকে অলিম্পোস হলো একটি কঠিন জায়গা, যেখানে পৌঁছনো যায় না। কারণ সেখানে পৌঁছনোর একটিমাত্র উপায় রয়েছে। কারণ জায়গাটিতে কার্পাথোস জলদস্যুরা ঘন ঘন আসত এবং ৬০০ খ্রিস্টাব্দে জায়গাটি তাদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল।
এ ছাড়া অমুপি উপসাগর, আচাটা ও অ্যাপেলা সৈকত দ্বীপটির সুন্দর জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। জায়গাগুলোতে গেলে আপনি মনোরম দৃশ্য এবং স্বচ্ছ নীল পানি দেখতে পাবেন।
স্লোভেনিয়া
স্লোভেনিয়ায় এসে যে কারো প্রথমে মনোরম লেক ব্লেড দেখতে যাওয়া উচিত। এটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত একটি দুর্গ। এখানে সাঁতারের জায়গা এবং হাইকিং ট্রেইলও রয়েছে। জনপ্রিয়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে লেক ব্লেড ও বোহিঞ্জ লেক কাছাকাছি। পর্যটকরা এখানে প্যাডেল নৌকা ও হাইকিং করে থাকে। এ ছাড়া ট্রিগ্লাভ ন্যাশনাল পার্কের সেরা দৃশ্যগুলোও বেশ উপভোগ্য।
তবে যারা স্লোভেনিয়া উপভোগ করতে পারবেন না তাদের জন্য রয়েছে লুব্লজানা। এটি রাজধানী শহর, যা স্লোভেনিয়ার মতোই বেশ রোমাঞ্চকর। শহরটি এতটাই প্রাণবন্ত এবং রঙিন যে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই এখানে সর্বোত্তম একটি দিন কাটানো যায়। শহরটির অন্যতম সেরা আকর্ষণ তার ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করা।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক উল্লেখ করেছে, স্লোভেনিয়া টেকসই পর্যটনের দিকে ঝুঁকছে। যার মধ্যে রয়েছে নতুন গ্যাস্ট্রো-ট্যুরিজম বাইকিং রুট, খাবার এবং অন্যান্য খাদ্য উৎপাদনকারীদের পরিদর্শন।
আজোরেস, পর্তুগাল
যদি কেউ আজোরেস ভ্রমণে গিয়ে তিমি দেখতে না যান তবে তার আজোরেস ভ্রমণ অপূর্ণ রয়ে যাবে। পর্তুগালের ব্যতিক্রমী সুন্দর এই অঞ্চলটি বিশ্বের বৃহত্তম তিমি অভয়ারণ্যগুলোর মধ্যে একটি। এখানে বোতলনোজ ডলফিনসহ ২০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। তিমি দেখতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে কারণ বিভিন্ন ঋতু তিমির বিভিন্ন প্রজাতি নিয়ে আসে, যা বেশ উত্তেজনাপূর্ণ।
তিমি দেখা ছাড়াও এখানকার প্রধান দৃশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সেতে সিয়াদাদেস, লাগোয়া দো ফোগো এবং ফার্নাস ভ্যালি। এগুলো সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পরিদর্শন করা যায়।
অন্যদিকে শ্বাসরুদ্ধকর আজোরেস সৈকত একটি বিশেষ কারণে বিখ্যাত। সেটি হলো, এখানকার সৈকত বালুকাময়ের চেয়ে অনন্য এবং পাথুরে। এ ছাড়াও এখানে বিস্তৃত সৈকত নেই, তবে ছোট ছোট অনেক জায়গা রয়েছে।
পর্তুগিজ রিভেরা বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার সৈকতগুলোর জন্যও পরিচিত। কারণ এ বছর ৪৩১টি সৈকত এবং মেরিনা ইকোট্যুরিজমের জন্য নীল পতাকা পেয়েছে। এতে বোঝা যায় এই জায়গাগুলো পরিবেশগত এবং মানের দিক থেকে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
ইতালি
যারা সংস্কৃতি ও ইতিহাস ভালোবাসেন তাদের যেকোনো মূল্যে রোমে যাওয়া উচিত। ইতালির রাজধানীতে কিছু প্রাচীন জনবসতিপূর্ণ আকর্ষণ রয়েছে, যা ইউরোপের অন্যান্য স্থানের তুলনায় গন্তব্যটিকে অনন্য করে তোলে।
রোমের অবশ্যই দেখা উচিত এমন জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে কালোসিয়াম, প্যান্থিয়ন, ভ্যাটিকান মিউজিয়াম, সিস্টিন চ্যাপেন ও ট্রেভি ফাউন্টেন। অন্যদিকে পিয়াজা নাভোনা ও ক্যাম্পো দো ফিওরি হাঁটার জন্য এবং সুস্বাদু খাঁটি ইতালিয়ান খাবারের জন্য ব্যতিক্রমী।
এ ছাড়া ইউরোপের প্রাচীন মহাসড়ক হিসেবে বিবেচিত ইতালির অ্যাপিয়ান ওয়ে বরাবর তীর্থযাত্রা করে ইতিহাস উপভোগ করতে পারেন।
অস্ট্রিয়া
স্থানীয় সংস্কৃতিকে লালন করার জন্য অস্ট্রিয়ার পর্যটকদের অবশ্যই পর্বতারোহণ গ্রামের ক্রস-কান্ট্রি বার্গস্টেইগারডোরফার নেটওয়ার্কে যেতে হবে। অস্ট্রিয়াতে বেশ কয়েকটি হ্রদ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ওয়ার্থারিস, ওয়াচাউ এবং জেল অ্যাম সি অন্যতম।
শহর অনুসারে, ভিয়েনায় সব কিছুই রয়েছে―ইতিহাস, সংস্কৃতি, মানুষ এবং খাবার। তবে সালজবার্গ এবং গ্রাজে এমন কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা কারো ভ্রমণ তালিকা থেকেই বাদ দেওয়া উচিত নয়। ভিয়েনার কফি হাউসগুলো দেখার মতো, কারণ এর মধ্যে অনেকগুলো ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।
সূত্র : সেনজেন ভিসা ইনফো
কিউএনবি/আয়শা/৩১ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:২৫