ডেস্ক নিউজ : জেলা পরিষদসহ দেশের সব নির্বাচনই ভুয়া মন্তব্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমরা কোনো নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত নই। এই নির্বাচন (জেলা পরিষদ নির্বাচন) নিয়ে আমরা কোনো কথা বলব না। সমস্ত নির্বাচনই ভুয়া। একমাত্র নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সেই আন্দোলনে আমরা আছি। ওই আন্দোলনকে আমরা বিজয়ের পথে নিয়ে যাব। ৫৭ জেলার জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সোমবার সকালে নয়া পল্টনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য অট্টহাসির খোরাক উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আপনারা যদি ব্যাপক লোক সমাগম করতে পারেন, তবে নিশিরাতে ভোট ডাকাতি কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ভোট করতে হয় কেন? আপনাদের যদি এতই জনসমর্থন থাকে। এখন নিশিরাতের ভোটের ব্যাপারে শুধু দেশের বিরোধী দল নয়, সুশীল সমাজ নয়, দৃশ্যমান যে ঘটনা আন্তর্জাতিক মহল থেকেও আপনাদের নিশিরাতের ভোট আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ভোট নিয়ে নানা প্রতিবাদ আসছে, নানা বক্তব্য আসছে। আর আপনারা ৩০ লক্ষ লোকের সমাগম করবেন এটাও তো এখানে অট্টহাসি দেওয়া ছাড়া আর বলার কিছু নেই।
রিজভী বলেন, সমাবেশের সময়ে রাস্তায় যানবাহন বন্ধ করে দিচ্ছেন, পথে পথে হামলা-গ্রেপ্তার, মামলা করছেন। তারপরও গণসমাবেশমুখী কাফেলা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মানুষের স্রোত দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিড়া-মুড়ি নিয়ে দিনরাত হেঁটে কিংবা ভ্যানে-ট্রলারে করে এসে সমাবেশে আসছে। সমাবেশের মাঠে-ময়দানে, রাস্তায়, ফুটপাতে, গলিতে ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে একত্রে এমকি বাথরুমের পাশে কাটাচ্ছেন হাজারো দেশপ্রেমিক জনতা। এই অভূতপূর্ব দৃশ্য এদের অবদান ত্যাগ-বৃথা যাবে না। এই পরিস্থিতি উপলব্ধি করে আপনারা নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তা নাহলে গণঅভ্যুত্থান আসন্ন।
ময়মনসিংহ গণসমাবেশে শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে রেল স্টেশনে ছাত্রলীগ-যুব লীগের হামলার ঘটনা এবং চার শতাধিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনার নিন্দা জানান রিজভী। রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রী তো সঠিক তথ্য দেবেন। কিন্তু এমন তথ্য দেন সেই তথ্যে মানুষ হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। জব্বারের বলি খেলা দেখতে জড়ো হওয়া মানুষ আর শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে জড়ো মানুষের মধ্যে যারা পার্থক্য বুঝেন না এই ধরনের নেতা মন্ত্রীদেরকে বলে হবু চন্দ্র রাজার গবু চন্দ্র মন্ত্রী। পৃথিবী সম্ভবত হাছান মাহমুদ সাহেবই একমাত্র তথ্য মন্ত্রী যিনি সঠিক তথ্যকে টিনের বাক্সে তালা দিয়ে অসত্য তথ্য সম্প্রচার করেন।
তিনি বলেন, কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্ববাসী পত্র-পত্রিকায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছে জনসভাস্থল ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল সরকার পতনের দাবিতে ঘর ছেড়ে আসা মানুষের ঢল। ১২ তারিখ চট্টগ্রামেও এবং গত পরশুদিন ময়মনসিংহেও। কেবল দেখতে পাননি হাছান মাহমুদ। আমরা রাতকানা শুনেছি। এই প্রথম দিনকানা মন্ত্রী দেখলাম।
তিনি আরো বলেন, ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাটিয়ে চলিল। আওয়ামী লীগের সমাবেশস্থলগুলো তাই। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের কথা-বার্তা তাই। বিদায় লগ্নে তাদের যেকোনো সমাবেশে লোক সমাগম এখন সুপার ফ্লপ হওয়াতে বিদ্বেষবশত বিএনপির সমাবেশকে নিয়ে পাগলের প্রলাপ বকছেন হাছান মাহমুদ। আপনাদের মনে আছে কয়েকদিন আগে জামালপুরে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সম্মেলনের স্টেজে দুই-তিনজন লোক বসা আর গোটা প্যান্ডেলে সব চেয়ার খালি। সব পত্র-পত্রিকায় এই খবরটি এসেছে
‘‘আমার মনে হয় তথ্যমন্ত্রী এই ধরনের অসত্য, মনগড়া বানোয়াট কথা বলেন কি প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে। এসব কথা বলে উনি যে মানুষের কাছে হাসির পাত্র হচ্ছেন এটা উনি কি ভাবেন না। আমি শুনেছি উনি ডক্টরেট। তা তো এইরকম উচ্চ শিক্ষিত লোক এত নিম্ন রুচির কথা বলেন কি করে এটাই আমার অবাক লাগে। ”
সংবাদ ব্রিফিংঙে বিএনপির আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী সপু, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আবদুল বারী ড্যানি, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, উলামা দলের শাহ নেছারুল হক, যুবদলের আলী আকবর চুন্নু, গোলাম মওলা শাহিন, শ্রমিক দলের মঞ্জরুল ইসলাম মঞ্জু প্রমূখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:২৪