মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্য থেকে শামিমাকে সিরিয়ায় পাঠানোর পেছনে কারা?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১০১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শামিমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছেন তার আইজীবীরা, তারা যুক্তি দেখাচ্ছেন যে এই কিশোরী মানব পাচারের শিকার হয়েছিলেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামিমা বেগম যুক্তরাজ্য থেকে এক কানাডিয়ান গোয়েন্দার সহায়তায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর হয়ে যুদ্ধ লড়তে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন।

বুধবার বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবিই করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, তারা যেসব নথি দেখতে পেয়েছে, সেখানে মোহাম্মদ আল রশিদ নামের ওই কানাডিয়ান এজেন্ট দাবি করেছেন, তিনি শামিমা বেগমের পাসপোর্টের তথ্যসহ আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে পাচার করা অন্যান্য ব্রিটিশ নাগরিকের তথ্য কানাডা সরকারকে জানিয়েছিলেন।

শামিমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছেন তার আইজীবীরা, তারা যুক্তি দেখাচ্ছেন যে এই কিশোরী মানব পাচারের শিকার হয়েছিলেন।

‘নিরাপত্তা ইস্যু’কে কারণ দেখিয়ে বিবিসির কাছে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কানাডা ও যুক্তরাজ্য সরকার।

২০১৫ সালে শামিমার বয়স ছিল ১৫ বছর, যখন তিনি লন্ডনের আরও দুই স্কুলছাত্রী খাদিজা সুলতানা (১৬) ও আমিরা আব্বাসির (১৫) সঙ্গে সিরিয়া যান আইএসে যোগ দেওয়ার জন্য।

ইস্তাম্বুলের প্রধান বাস স্টেশনে এই কিশোরীরা আল রশিদের সঙ্গে দেখা করেন। রশিদ তাদেরকে আইএস নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ায় ঢুকতে সহায়তা করেছিল।

আইএসের বিরুদ্ধে গঠিত আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে কাজ করা একটি সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে আইএসের জন্য মানব পাচার করার সময় কানাডার গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দিয়েছিলেন রশিদ।

রশিদের উপর তৈরি করা একটি বৃত্তান্ত বিবিসির হাতে এসেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের সংগ্রহ করা তথ্য রয়েছে। ওই নথিতে রশিদের কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ থেকে উদ্ধার করা তথ্যও রয়েছে, যা থেকে তার কাজের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণও পাওয়া যায়।

রশিদ জানিয়েছেন যে তিনি যাদের সিরিয়ায় যেতে সাহায্য করেছিলেন, তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতেন, কারণ তিনি সেসব তথ্য জর্ডানে কানাডার দূতাবাসকে দিতেন।

শামিমাকে সিরিয়ায় আইএসের কাছে পাচারের কয়েক দিনের মধ্যেই তুরস্কে গ্রেপ্তার হন রশিদ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, স্কুলছাত্রী শামিমার পাসপোর্টের একটি ছবিও তিনি কানাডা দূতাবাসে সরবরাহ করেন।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ যখন শামিমার খোঁজ শুরু করে, ততদিনে তিনি সিরিয়ায় পৌঁছে গেছেন। ওই সময়ই কানাডা তার পাসপোর্টের তথ্য পায়।

রশিদকে নিয়ে তৈরি করা একটি নথিতে বিবিসি দেখেছে, শামিমাকে সিরিয়ায় পৌঁছানো হয় আইএসের একটি বড় মানবপাচার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে, যা ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘোষিত রাজধানী রাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হত।

রশিদ ওই নেটওয়ার্কের তুরস্কের অংশের দায়িত্বে ছিলেন এবং শামিমা ও তার দুই সহপাঠীকে পাচারের আট মাস আগে থেকে ব্রিটিশ নারী, পুরুষ ও শিশুদের সিরিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার এই কাজ করে আসছিলেন।

বিবিসিতে প্রচারের অপেক্ষায় থাকা ‘আই অ্যাম নট আ মনস্টার’ পডকাস্টে শামিমা বলেন, “তিনি (রশিদ) তুরস্ক থেকে সিরিয়া পর্যন্ত পুরো ট্রিপটি আয়োজন করেছেন… আমি মনে করি পাচারকারীদের সাহায্য ছাড়া কারও পক্ষে আইএসের নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ায় প্রবেশ করা সম্ভবপর হত না।

“তিনি অনেক মানুষকে সিরিয়া প্রবেশে সাহায্য করেছেন … তিনি আমাদের যা বলেছেন, আমরা শুধু সেটাই অনুসরণ করে গেছি। কারণ তিনি সবই জানতেন, আমরা কিছুই জানতাম না।”

সূত্র: বিবিসি

কিউএনবি/অনিমা/০১.০৯.২০২২/সকাল ৯.৫৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit