বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আটোয়ারী নেছারীয়া ছালেহীয়া খানকাহ শরীফে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী(সা.) পালিত নোয়াখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি সক্ষমতায় সভা আটোয়ারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোরের গুরুত্ব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আলোচনা আশুলিয়ায় ৩ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের র‍্যালী ও মানববন্ধন আত্মসমর্পণের পরও দস্যুতায় ফিরেছেন ৮ জন দেশের পথে মির্জা আব্বাস সরকারি খরচে হজ করলে ফরজ আদায় হবে কি? সন্তানের মার্কিন পাসপোর্টে লাগবে বাবা-মায়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ ৩২ মাস পর শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে দলে ফিরলেন শানাকা হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর প্রাণ গেল

চৌগাছায় পুলিশ সদস্যের বাল্যবিয়ে! প্রশাসনের নিষেধ অগ্রাহ্য

স্টাফ রিপোর্টার (যশোর)
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২
  • ৯৬৬ Time View

স্টাফ রিপোর্টার (যশোর) : যশোরের চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিষেধ অগ্রাহ্য করে এক স্কুল ছাত্রীকে (১৬) বিয়ে করেছেন আসাদুজ্জামান পিকুল নামে এক পুলিশ সদস্য। তার বড় ভাই তৌহিদুর রহমান নয়ন (৩৬) ও এক স্কুল ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। তারা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়–য়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। আসাদুজ্জামান পিকুল বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর থানায় পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত। কনের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে রবিবার (১৪ আগস্ট) যশোর নোটারি পাবলিকের এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ৬ আগস্ট উপজেলার সলুয়া গ্রামের তাইজুল ইসলামের স্কুল পড়–য়া মেয়ে সাদিয়া খাতুনের (১৬) কে বিয়ে করেন পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান পিকুল। আর তার বড় ভাই তৌহিদুর রহমান নয়ন পাশ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের ১৭ বছর বয়সী একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুলিশ সদস্যের বাল্যবিয়ের ঘটনায় গোটা উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ২৮ ও ২৯ জুলাই উপজেলায় বাল্যবিয়ের ঘটনায় কনের বাবা, দাদা, নানা ও বরের মামাসহ চারজনকে ৬ মাস ও ৯ মাস করে জেল দেয়া হয়েছে। তারা সবাই দিনমজুর ওভ্যান চালক শ্রেণির। অথচ একজন পুলিশ সদস্য ও তার বড় ভাই প্রশাসনের নিষেধ উপেক্ষা করে কিভাবে বাল্যবিয়ে করতে পারেন ? তাও আবার কাজীর কাছে না করে এফিডেভিটের মাধ্যমে। তাদের প্রশ্ন আইন কি শুধুই গরীবের জন্য ?।

জানা যায়, গত ৩ আগস্ট উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়–য়া গ্রামের লুৎফর রহমানের বড় ছেলে তৌহিদুর রহমান নয়নের (৩৬) বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিলো। পাশ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের ১৭ বছর বয়সী একটি মেয়ের সাথে। আর ৬ আগস্ট উপজেলার সলুয়া গ্রামের তাইজুল ইসলামের স্কুল পড়–য়া মেয়ে সাদিয়া খাতুনের (১৬) সাথে বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিলো তৌহিদের ছোটভাই সাতক্ষীরা সদর থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান পিকুলের (২৮)। বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা নিজে পুলিশ সদস্যপিকুলকে মোবাইলে তার ও ভাইয়ের বাল্যবিয়ে করতে নিষেধ করেন।

পরে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ, জগদীশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার সিরাজুল ইসলামও মোবাইলে ওই পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলেন। সে সময় পুলিশ সদস্য পিকুল নিজে এবং তার ভাই বাল্যবিয়ে করবেন না মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি এবং ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট মোবাইলে অঙ্গীকার করেন। পরেও গোপনে সুযোগ ওই পুলিশ সদস্য পিকুল নিজের বড়ভাইকে বাল্যবিয়ে দেন। পরে গত ১৪ আগস্ট যশোর নোটারী পাবলিক এর কার্যালয়ে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে নিজের বিবাহের ঘোষণা দেন।ঘোষণাপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, যশোর সদর কাজী অফিসের (তবে কাজীর নাম দেননি) মাধ্যমে উল্লেখিত সাদিয়া আক্তারকে তিনি এক লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করেছেন। এফিডেভিটে সাদিয়া আক্তারের জন্মতারিখ ২০০৪ সালের ১৯ মে দেখানো হয়েছে।

এফিডেভিটে কাজী অফিসের রেজিস্ট্রি নং- এ, বই নং ১১/২২(ক), তালিকা ৪৪০, পৃস্টা নং ২৪ এবং তারিখ আগস্ট দেখানো হয়েছে। এফিডেভিটকারী হয়েছেন যশোর জর্জ কোর্টের এক আইনজীবী । অথচ ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ইস্যু করা জন্মনিবন্ধনপত্রে বিয়ের কন্যা সাদিয়ার জন্ম তারিখ ২০০৬ সালের ১৯ মে। তার জন্মনিবন্ধন কার্ডে দেখা যায় এই জন্মনিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে ২০১৬ সালের ৪ জুলাই এবং জন্মনিবন্ধন কার্ড ইস্যূ করা হয়েছে একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর। এলাকাবাসীর প্রশ্ন কাজী অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রির পর আসাদুজ্জামান পিকুল আবার কেন নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে এফিডেভিট করলেন ? আর আইনজীবীই বা কেন এই এফিডেভিট করে দিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জর্জ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সাগর বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিবাহ সংক্রান্ত কোনো আইনে এ কথা বলা হয়নি যে, কাজী অফিসে বিবাহ রেজিস্ট্রি করার পর সেটা আবার নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে এফিডেভিট করতে হবে। তিনি এটি করেছেন মানেই এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি নিজে ওই পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি এই বাল্যবিয়ে করবেন না বলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

একই সাথে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ এবং জগদীশপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের কাছেও একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। অথচ তিনি ১৪ আগস্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের ঘোষণা দিয়েছেন সেই কাগজপত্র আমাদের কাছে এসেছে। শুনেছি তার বড়ভাইও সেই নাবালিকাকেই বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, ডিসি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক এ বিষয়ে চৌগাছা থানায় নিয়মিত মামলা করা হবে। একইসাথে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকের কাছে পত্র দেয়া হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৫ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/রাত ১১:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit