সজিব হোসেন নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর পোরশায় পারিবারিক কলেহের জেরে শ্বাসরোধে গৃহবধু ফাতেমা খাতুন (২৫) কে হত্যার অভিযোগে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান (৪০) সহ শশুর আকবর আলী এবং শাশুড়ি জুলেখা বেগম কে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দিঘিপাড়া শাহাপুকুর গ্রাম এই ঘটনাটি ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করেছে। আটককৃত মোস্তাফিজুর রহমান ওই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, ওই গৃহবধু ফাতেমা খাতুনের সাথে মোস্তাফিজুর প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর ঘরে ৮ বছরের একটি ছেলে ও ৩ বছর বয়সের একটি মেয়ে হয়েছে। সংসারের অভাব অনটন কাটাতে গত চার বছর ধরে ঢাকায় থেকে মোস্তাফিজুর শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। রবিবার সকাল ৮টার দিকে মোস্তাফিজুর ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন। এরপর সকালের নাস্তা শেষে স্বামী-স্ত্রী ঘরের মধ্যে ঢুকলে ফাতেমার শ্বাশুড়ী জুলেখা বেগম ৩ বছরের মেয়ে সাথে নিয়ে বাড়ির বাহিরে চলে যান। কিছু সময় পর জুলেখা বেগম বাড়ি ফিরে এসে বৌমা ফাতেমা খাতুনের মরদেহ দেখতে পান।
এরপর জুলেখা বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে মোস্তাফিজুরকে আটক করে থানায় সংবাদ দেন। পোরশা থানা অফিসার ইনচার্জ জহুরুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলেন, ফাতেমার গলায় কালো দাগ রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে মোস্তাফিজুর তাকে শ্বাস রোধে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান সহ শশুর আকবর আলী এবং শাশুড়ি জুলেখা বেগম কে আটক করে থানায় মামলা করা হয়েছে। ফাতেমার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘাতক স্বামী সহ শশুর এবং শাশুড়ি কে আদালতের মাধ্যমে রবিবার জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/১২.০৬.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:২৯