বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আরজেএফের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশনের মানববন্ধন আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটি গুপ্ত দলের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী ফ্রান্সের দাঙ্গা ও ভারতের আন্দোলনের যোগসূত্র কোথায়, অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে প্যারিসে লুণ্ঠন, মুহূর্তেই শেষ বাংলাদেশি হাসানের ১০ বছরের শ্রম-সঞ্চয় রিয়াদে ম্যাক্রোঁর আকস্মিক ‘সংহতি’ সফর ফ্রান্সে ক্ষোভের আগুন, বিক্ষোভের নতুন বার্তা নিয়ে ইউরোপের ১০১ সংগঠন ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন পুতিন, জিনপিং ও ট্রাম্প: ক্রেমলিন ট্রাম্প-জেলেনস্কির পারস্পরিক অবিশ্বাস: যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে চরম অবনতি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: এনবিসি

ভারতে গ্রেপ্তার পি কে হালদার

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৪ মে, ২০২২
  • ১৫১ Time View

ডেস্ক নিউজ : হাজার কোটি টাকা পাচারকারী ও বাংলাদেশের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার প্রশান্ত কুমার ওরফে পি কে হালদারসহ ছয় জনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মে) দুপুরে ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পি কে হালদার পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগরের একটি বাড়িতে নাম পাল্টে থাকতেন – এমনটাই দাবি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার।

শুক্রবার কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার অন্তত ৯টি স্থানে অভিযান চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অবৈধ টাকায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে পি কে’র বিরুদ্ধে।এ ছাড়া, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিবশঙ্কর হালদার নামে ভুয়া পরিচয়ে পালিয়ে ছিলেন প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার। তিনি শিবশঙ্কর পরিচয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, প্যান ও আধার কার্ড জোগাড় করেছিলেন। 

শুক্রবার (১৩ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি) জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রিতিশ কুমার হালদার, প্রানেশ কুমার হালদার ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সম্পদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার ভুয়া পরিচয়ে ভারতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছিলেন। তিনি কলকাতা মহানগরীর অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি কিনেছেন। তার নামে-বেনামে সম্পত্তির খোঁজে ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

পি কে হালদারের খোঁজে এই বাড়িতে অভিযান চালায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা

প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া অশোকনগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা। শুক্রবার আর্থিক দুর্নীতির খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উঠে আসে প্রকৃত রহস্য। জানা যায়, পি কে হালদার অর্থাৎ প্রশান্ত কুমার হালদার এবং সুকুমার মৃধা প্রকৃতপক্ষে অশোকনগরের দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী। এতেই ইডির কাছে প্রায় স্পষ্ট দু’জনের দীর্ঘদিনের যোগসাজশেই এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে।  

ওই অঞ্চলে পি কে হালদারের নবজীবন পল্লীতে সুবিশাল বিলাসবহুল বাগানবাড়ি আছে। ঠিক তার পাশেই আছে সুকুমার মৃধার আরেক বিলাসবহুল বাগান বাড়ি। সুকুমার একজন মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে সেখানে পরিচিত হলেও তার আর্থিক সঙ্গতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে।

ইডি’র তদন্তে জানা যায়, শুধুমাত্র অশোকনগরে একাধিক সম্পত্তি কিনেছে পি কে এবং সুকুমার। এদিন অশোকনগরের ৩টি বাড়িতে একযোগে তল্লাশি শুরু করে ইডি। যার একটিতে থাকতেন সুকুমার মৃধার মেয়ে অনিন্দিতার জামাই। তাকে জেরা করেছে ইডি। অন্যদিকে, অশোকনগরের বিলাসবহুল বাড়িতে পি কে হালদারের আত্মীয় প্রণব কুমার হালদার ও তার দুই ছেলে মিঠুন হালদার ও বিশ্বজিৎ হালদারকেও জেরা শুরু করেছে ইডি। স্থানীয়রা জানতেন, প্রণব কুমার হালদার ছিলেন সরকারি কর্মচারী। তার বড় ছেলে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এবং ছোট ছেলে মিঠুন হালদার বিএসএফ জওয়ান হিসেবে কর্মরত। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির দিকে তারাও ছিল ইডির নজরে।  

তাদের চারবিঘা জমির উপর বিলাসবহুল বাড়িটির কারণে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এনআরবি গ্লোবালের বেআইনি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছে বলে ইডির অনুমান।  

অশোকনগরের এই বাড়িটি সিলগালা করে দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা

সূত্রের খবর, কলকাতা ছাড়াও দিল্লী, মুম্বাই এবং ভারতের অন্যান্য শহরেও পি কে এবং সুকুমার জুটির বিনিয়োগ আছে বলে অনুমান করছে ইডি। আপাতত পি কে এবং সুকুমার- দুই পরিবারকে জেরা করে সেই সম্পত্তির হদিস খুঁজছে ভারতের অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় এই সংস্থা।

এ ছাড়া, অশোকনগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকা, কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অভিজাত এলাকায় একাধিক বাড়ি ও অফিস রয়েছে এই যুগলের।  কলকাতায় যেভাবে এই জুটির বেআইনি সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি- তাতে বলা যায়, এনআরবি গ্লোবাল কাণ্ডে পাচারের বড় টাকার হদিসই মিলছে। তবে এই সম্পত্তি ক্রয়ের টাকা কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরবে সেটি এখন দেখার বিষয়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ই মে, ২০২২/৩০ বৈশাখ, ১৪২৯/বিকাল ৪:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit