রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চীনের মুদ্রা দিয়ে ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে নিষিদ্ধ হচ্ছে বড় ডেটা সেন্টার আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’ চূড়ান্ত, পরে আলোচনা: ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি ভারতীয় জাহাজে গুলি, ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব দিল্লির যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠাবে না ইরান যুদ্ধকালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহত ৩,৪৬৮ ইউনিফিলে হামলার নিন্দা জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি হজযাত্রী ছাড়া কেউ মক্কায় ঢুকলেই মোটা অঙ্কের জরিমানা

রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা শুধু জনগণের কাছেই থাকার কথা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ মে, ২০২২
  • ১০১ Time View

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশে জনগণের ভোট সরকারের পক্ষে যাবে না বলেই সরকার জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। কারণ সরকার সত্য জানতে ভয় পায় আর সেই জন্যেই জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। যেদেশে জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই, সেই দেশে গণতন্ত্র থাকে কীভাবে? কিন্তু এর জবাবদিহিতা নেই বলে জনগণ সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত। যে সরকার জনগণের মনের ভাষা বুঝে না, সেই সরকার জনগণের সরকার হয় কীভাবে? এ যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর দোহাই লাগে ভয় এবং আতঙ্ক দেখিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত থাকুন। 

ভয় নয় ভালোবাসা হোক আল্লাহ পাক রাব্বুল আল-আমিনকে স্মরণ করার মূলমন্ত্র। আলো, বাতাস, চন্দ্র-তারা, সূর্য থেকে শুরু করে সবকিছু অসীম শূন্যে বিরাজমান। রবি হতে গ্রহে ঝরছে তাঁর করুণা এবং ভালোবাসা। সেগুলোকে ভালোবাসা দিয়েই শুধু অনুভব করতে হবে, কারণ ভালোবাসায় রয়েছে শুধু ভালোবাসা। এ ছিল কিছু অপ্রিয় সত্য তথ্য যা উপরে তুলে ধরেছি, বুঝতে সহজ হবে কেন হেডিংয়ে লিখেছি “রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা শুধু জনগণের কাছেই থাকার কথা”।

আসুন জেনে নেই কেন জনগণের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা সে প্রসঙ্গে। দেশের আইনে ফাঁক থাকায় বেআইনই আইনের হাত ধরে চলছে, তারপরও কিছু বলা বা লেখা যাবে না। কিছুদিন আগে দেখলাম সংসদে আইনমন্ত্রী ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, পরে বললেন তাকে পানি খাইয়ে দিয়েছে। সংসদে এ ধরনের ঘটনা অথচ কিছু বলা যাবে না! পুলিশ এবং প্রতিরক্ষা প্রশাসনে চলছে অনিয়ম। কিছু বলা বা লেখা যাবে না। অপ্রিয় সত্যকে তুলে ধরা যাবে না। দুর্নীতি হবে কিন্তু কিছু বলা যাবে না। অন্যদিকে মৌলভীদের ধর্মের ওপর নানা ধরণের বিশ্লেষণ এবং দ্বিমত সত্ত্বেও কিছু বলা যাবে না। সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না। সংবাদপত্রগুলো সত্য খবর প্রকাশ করতে পারবে না। করলে প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাবে। 

মৌলভীদের সম্পর্কে কিছু বললে ধর্মচ্যুত করা হবে ইত্যাদি। অথচ রাষ্ট্র সংবিধানে লিখে রেখেছে জনগণের বাঁক স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের কথা, গণতন্ত্রের কথা, ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ সত্ত্বেও রাষ্ট্র চলছে তার নিজের গতিতে। লেখা থাকা সত্ত্বেও সেটা পালন করা হচ্ছে না, কারণ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করা হয়নি, হলে অবশ্যই জবাবদিহিতা থাকত। একইভাবে ধর্মে পরিষ্কার বলা হয়েছে- অন্যায় করা মহাপাপ, দুর্নীতি করা যাবে না, মিথ্যাকথা বলা যাবে না অথচ সবই দেধারছে করা হচ্ছে। তার মানে সংবিধান এবং ধর্মগ্রন্থ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো মেনে কাজ করা হচ্ছে না। রাষ্ট্র অন্যদিকে বিদেশিদের কাছে জবাবদিহিতা দিতে বাধ্য; যা আমাকে জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে ছোট করেছে। আমি লজ্জিত আমি ঘৃণিত সরকারের এ কাজের জন্য। 

যদি একটু জোরালোভাবে গোটা বিশ্বের গণতন্ত্রের পরিকাঠামোর দিকে তাকাই তবে যে জিনিসটা প্রথমে লক্ষ্যণীয় হবে সেটা হলো জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের মতো কিছু দেশ রয়েছে তাদের জবাবদিহিতা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ যেমন আমেরিকার কাছে। তার প্রমাণ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের বক্তব্যে যা তিনি গত রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে পরিষ্কার করে দিয়েছেন। সত্যি কথা বলতে কি আজ যদি সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় থাকত তবে অবশ্যই বহির্বিশ্বের এমন কোন শক্তি নেই যে বলতে পারত জবাবদিহিতা ছাড়া র্যা বের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র কথা বলেছে যেমন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও জবাবদিহিতা ছাড়া র্যা বের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। তাতে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রই আমাদের দেশের মালিক। আমাদের অবস্থান কোথায় দাঁড়াল তাহলে? যুক্তরাষ্ট্র চায়, র্যা ব এমন একটি বাহিনী হবে যেটি সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে যেমন কঠোর থাকবে তেমনি মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র চায় তাই পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে হবে, দেশের জনগণ যেমন ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায় সেদিকে কারো খেয়াল নেই অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কি চাই সেটার দিকে সবার নজর!

তবে হ্যাঁ একটি জিনিস পরিষ্কার সেটা হচ্ছে আমি যেমন সুইডেনে বসবাস করি এখানে আমরা অর্থাৎ জনগণ, জনগণ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের মতো বলে থাকি রাষ্ট্র বা সরকার কি করবে বা করবে না। আমি বাংলাদেশি হিসেবে গর্ব অনুভব করব যদি বাংলার জনগণ এ ধরনের কথা বলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, বর্ধিত সহযোগিতা ও অগ্রসর অংশীদারিত্ব শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। আমার প্রশ্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন? অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবং সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে র্যা বের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন পিটার ডি হাস। শেষে তিনি বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাব। এসব জানার পর আমার ভাবনা আর কতদিন চলবে এভাবে! আমার কেন যেন গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লিখা গানের কিছু লাইন মনে পড়ছে- ”আমরা অপমান সইবনা ভীরুর মতো ঘরের কোণে রইব না, আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে ঝরতে জানি”। আমরা বাকিরা সবাই নৈতিকতা এবং মানবতার পতন দেখেও নির্লজ্জ অলস হয়ে চুপচাপ সব সহ্য করছি কী কারণে?

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৬ই মে, ২০২২/১৮ বৈশাখ, ১৪২৯/সকাল ১০:০৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit