ডেস্ক নিউজ : নদীর বুকে চলন্ত নৌকা, চারদিকে অথই পানি। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাঝনদীতে শুরু হয় এক গর্ভবতী নারীর প্রসববেদনা। শেষ পর্যন্ত নৌকার মধ্যেই জন্ম নেয় ফুটফুটে দুই সন্তান। প্রথমে ছেলে, পরে মেয়ে। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন নৌকার যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝনদীতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ীঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে সকাল ১০টার দিকে নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে এক গর্ভবতী নারীর প্রসববেদনা শুরু হয়। এতে নৌকায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নদীর মাঝখানে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগও ছিল না।
এমন পরিস্থিতিতে নৌকার মধ্যেই তিনি প্রথমে একটি ছেলে ও পরে একটি মেয়েসন্তানের জন্ম দেন।
ওই নারীর স্বামী মনোয়ার হোসেন। তিনি উপজেলার জিগাবাড়ী গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে।
মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে নৌকায় যাওয়ার পথে হঠাৎ তার প্রসববেদনা শুরু হয়। নদীর মাঝখানে থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। পরে নৌকাতেই আমার স্ত্রী যমজ সন্তানের জন্ম দেন। আল্লাহর রহমতে সন্তানদের মুখ দেখতে পেরেছি। সবার কাছে দোয়া চাই।’
নৌকার যাত্রী ও এরেন্ডাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ফজলে রাব্বি বলেন, ‘হঠাৎ ওই নারীর প্রসববেদনা শুরু হলে নৌকায় থাকা সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। নদীর মাঝখানে থাকায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। পরে নৌকাতেই যমজ সন্তানের জন্ম হয়।’
এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, ‘মাঝনদীতে নৌকায় যমজ সন্তান জন্মের বিষয়টি জেনেছি। চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি প্রসূতিসেবা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মা ও নবজাতকদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।’
ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকায় যমজ সন্তানের জন্মের এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে চরাঞ্চলে জরুরি প্রসূতিসেবা ও উন্নত চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এনেছে।
কিউএনবি/অনিমা/০৪ নভেম্বর ২০২৬,/সকাল ১১:১৭