শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ তিন হাজার ২৫০ ব্যালন ডি’অর গোপন হিসাব ফাঁস, নতুন ইতিহাস গড়লেন কেইন দুর্গাপুর সীমান্তে পুলিশের অভিযান,১২টি গরু সহ আটক ২ সিলেটে হামে মৃত্যু ২০৫ জনের, হাসপাতালে ভর্তি আরও ১৩৬ আব্দুল লতিফের চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহে চ্যারিটি ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলা বাবা ও বড়ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ঠাকুরগাঁও পৌর ভবন থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলেন মির্জা ফয়সাল আমরা জনগণের অধিকার আদায় করেই ছাড়ব: শফিকুর রহমান শূন্যপাস প্রতিষ্ঠান একীভূত করার বিবেচনা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

বাবা ও বড়ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ঠাকুরগাঁও পৌর ভবন থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলেন মির্জা ফয়সাল

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ Time View

জালাল আহমদ, ঠাকুরগাঁও থেকে ফিরে : বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং বড়ভাই বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ঠাকুরগাঁও “পৌর ভবন”  থেকে সংসদে যাচ্ছেন মির্জা ফয়সাল আমীন।গতকাল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়ে তিনি সংসদে প্রবেশের  সুযোগ নিশ্চিত করেছেন।

ঠাকুরগাঁও  শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃটিশ আমল থেকেই “রাজনৈতিক পরিবার” হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত “মির্জা পরিবার”। উচ্চ শিক্ষিত মির্জা রুহুল আমিন পাকিস্তান আমলে ১৯৬২-৬৬ সালে পরপর দুই বার পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় দীর্ঘ ১৭ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ সালে তিনি তৎকালীন দিনাজপুর-৪ ও ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এরশাদ আমলে কৃষিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার চাচা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকালীন নেতা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং সাবেক আইন ও ভূমিমন্ত্রী।

মির্জা রুহুল আমিনের জীবদ্দশায় তাঁরই ছেলে  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারি চাকরি ছেড়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই ১৯৮৮ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মেয়র, এমপি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনের বাসিন্দা হওয়ায় মির্জা পরিবার থেকে এই মুহূর্তে ঠাকুরগাঁও জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফয়সল আমীন।

তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ১৯৬৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমীন এবং মা ফাতেমা বেগম। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। মির্জা ফয়সল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন মির্জা ফয়সল:

শিক্ষাজীবন শেষে আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। তবে ব্যাংকিং পেশায় বেশি দিন থাকেননি। ১৯৯১ সালে চাকরি ছেড়ে স্থায়ীভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে আসেন এবং বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হন।এর আগে ১৯৭৯ সালে বাবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শুরু হয়। পরে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

আওয়ামী লীগের আমলেই ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত তিনটি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।ওই নির্বাচনে মির্জা ফয়সল পান ১৯ হাজার ১৮৪ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ১২ হাজার ৭৪৪ ভোট। পরে ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।  তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০১৬ সালের আগস্টে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন । পরের বছর ২৪ মে অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।টানা আট বছর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফয়সল। ওই সম্মেলনে পয়গাম আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাকালে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি সামলানোর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানান বিএনপির নেতা-কর্মীরা।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফয়সল ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। চলতি বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে রংপুর বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হন। পরে ৯ জুন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় তাকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।এ ছাড়া তিনি নিশ্চিন্তপুর থিয়েটার ও অ্যাপোলো ইলেভেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতি ও টাউন ক্লাবের সঙ্গেও সাংগঠনিকভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

জানা গেছে,চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে।শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মির্জা ফয়সল আমীন।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন তাঁর বড়ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সময়কার উন্নয়ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল সম্প্রসারণ, বন্ধ বিমানবন্দর চালু এবং ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন বলে জানান স্থানীয় লোকজন। অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বেসরকারিভাবে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হলেন বিএনপি নেতা মির্জা ফয়সল আমীন। 

নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন । মির্জা ফয়সল আমীন  ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র। আওয়ামী লীগের আমলেই তিনি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনিও পৌর ভবন থেকে বাবা এবং বড়ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন।

পৌর শহরের সমাজ সেবক রফিকুল ইসলাম জানান, “মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও মানুষের নেতা। তারই ঐতিহ্য ধরে রেখেন পরিবারটি। আশা করি এই পরিবারটি দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করে যাবে।মির্জা ফয়সল আমীন  তার বাবা ও বড় ভাইয়ের মতো জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।”মির্জা ফয়সল আমীনের বন্ধু এবং ঠাকুরগাঁও জেলার স্থানীয় সাংবাদিক জাকির মোস্তাফিজ মিলু জানান, “ফয়সল আমার স্কুল জীবনের বন্ধু! ছোটোবেলা থেকে চিনি ওকে।

ভালো ছাত্র ছিলো।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, দৃষ্টিভঙ্গী, বিশ্লেষণ ক্ষমতার পাশাপাশি সে বেশ ভালো, আবৃত্তিকার, লেখক, বক্তা এবং লার্নিং পারসন। তাঁকে বাইরে থেকে দেখে তাঁর ভেতরটা বোঝা মুশকিল! তো বিশাল হৃদয় তাঁর। নির্বাচিত হবার পরেরদিন গিয়ে প্রবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ধরবার, তাঁকে ভুল ধরিয়ে দেবার আহবান জানানো ঘটনার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পরিপক্কতাও প্রকাশ পায়।”

কিউএনবি/আয়শা/৩১ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ১২:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit