বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত নামাজ পড়ে ফেরা হলো না চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মেহরাজের নোয়াখালীতে চার হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক গ্রেপ্তার এডওয়ার্ড ফিটনেস ক্লাব পাবনার ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিলো বাংলাদেশ সরকার শরীয়তপুরে নার্সদের অপচেষ্টায় মাতৃগর্ভে নাবজাতকের মৃত্যু নওগাঁর নিয়ামতপুর ঘুঘুডাঙ্গা তালতলী বণিক সমিতির পক্ষ থেকে সাংসদ মোস্তাফিজুরকে সংবর্ধনা  খাগড়াছড়িতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে  ৬৮ পূজামণ্ডপে অনুদানের চেক বিতরণ। চৌগাছায় বিএনপির সম্মেলন ও মানব বন্ধন সারডিলার নিয়োগে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন নোয়াখালীতে অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ

ইরানে ‘বিশ্বের বৃহত্তম বোমা’ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এ পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানে হামলার জন্য নতুন কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিংবা পরে ট্রাম্প আবার সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিলে এসব পরিকল্পনা কাজে লাগানো হতে পারে।

একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে ইরানের ‘বিপুলসংখ্যক জ্বালানি অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এসব হামলায় এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সম্ভাব্য অভিযানের সময় সম্পর্কে একটি সূত্র বলেছে, ‘সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের আগে’। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, প্রশাসন নতুন করে হামলা চালিয়ে বিজয় ঘোষণা করতে এবং পরে অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিতে পারে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে তৈরি সামরিক পরিকল্পনায়ও এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারণা, ইরান সেখানে তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন উপাদান সংরক্ষণ করেছে।

গত কয়েক মাসে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি বারবার দিয়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরের শুরুতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত করার পরও তিনি এ হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

যুদ্ধ শেষ করতে চাপে ট্রাম্প

ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করছেন রিপাবলিকান নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চালানো বোমা হামলার পরও ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা যুদ্ধকে কার্যত জয় হিসেবে বর্ণনা করলেও ট্রাম্প নিজে এখনো চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা করেননি। বরং ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সংঘাতের একটি ‘চূড়ান্ত’ সমাপ্তি কীভাবে দেখানো যায়, তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা আলোচনা করছেন। কর্মকর্তারা এমন একটি উপায় খুঁজছেন, যাতে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা খোলা রেখেই যুদ্ধের ফলাফলকে বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারেন প্রেসিডেন্ট।

বাইরের মিত্রদের কেউ কেউ মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করে সংঘাত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার যুক্তি, এভাবে সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি আর সামরিক পদক্ষেপ নেবেন না। তবে সিএনএনকে কয়েকজন উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, তার এ প্রতিশ্রুতি চূড়ান্ত কি না, তা নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। নির্বাচনের আগে অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসে কতটা কার্যকর এমওএবি?

এমওএবি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে থাকা সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা। তবে ইরানে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এর কার্যকারিতা ঘিরে। বিশেষ করে ভূগর্ভের অনেক গভীরে অবস্থিত স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে বোমাটি কতটা সক্ষম, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, নীতিনির্ধারকদের জন্য কম তীব্রতার হামলা থেকে শুরু করে শক্তিশালী আক্রমণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিকল্প তৈরি করে সামরিক বাহিনী। গভীর ভূগর্ভে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে বড় আকারের অস্ত্র প্রয়োজন হয়। এ কারণে সামরিক পরিকল্পনায় এমওএবির ব্যবহার বিবেচনা করা হচ্ছে।

জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত এই বোমাটি প্রায় নয়টি শহুরে ব্লকের সমপরিমাণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। তবে সূত্রগুলোর ধারণা, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার মতো গভীরতায় এটি পৌঁছাতে পারবে না। ধারণা করা হয়, গ্রানাইটের একাধিক স্তর দিয়ে ওই স্থাপনাটি সুরক্ষিত। ইরানের অন্যান্য অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রেও বোমাটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র এমওএবিকে গভীর ভূগর্ভে আঘাত হানার অস্ত্রের বদলে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস বা পরিষ্কার করার উপযোগী অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। মাটিতে আঘাত করার আগেই বোমাটি বিস্ফোরিত হয় এবং চারপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণতরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়।

এটি ব্যবহার করা হলে ভূপৃষ্ঠে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে। তবে তাতে গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি অবকাঠামো কিংবা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।    

মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে বোমাটি

ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে এমওএবি ব্যবহার করতে পারেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু না করেও তেহরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হতে পারে।

সাম্প্রতিক সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, ট্রাম্প হয়তো কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য বোধ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বোমাটির মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা হতে পারে। কারণ, এটি মূলত গভীর ভূগর্ভে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি নয়।

ওই সূত্রের মতে, ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে কিংবা নির্ণায়ক সামরিক বিজয় অর্জন করতে না পারলেও বোমাটি ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা ও বাইরের বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, সামরিকভাবে ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে হলে বড় ধরনের স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে। এতে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ এখন পর্যন্ত এমন চরম পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেননি।

ইরানের ভেতরে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনে ট্রাম্পের আগ্রহ কম বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিন্তু দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার আকাঙ্ক্ষা তাকে রাজনৈতিক জটিলতার মুখে ফেলেছে। একদিকে যুদ্ধটি অজনপ্রিয়, অন্যদিকে সংঘাত বন্ধে এখনো কোনো কূটনৈতিক চুক্তি হয়নি।

যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সামরিক পরিকল্পনাকারীরা এমন পথ খুঁজছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট মার্কিন জনগণের সামনে অন্তত প্রতীকী বিজয় তুলে ধরতে পারেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনাও বজায় রাখতে চান তাঁরা।

সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক সমঝোতার একটি সম্ভাব্য সূচনা হতে পারে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার চুক্তি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে তা সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি করতে পারে।

পেন্টাগনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত চতুর্থ একটি সূত্র প্রস্তাবিত কিছু সামরিক বিকল্পকে ‘আতশবাজির প্রদর্শনী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সূত্রটির মতে, এসব হামলার মাধ্যমে মূল যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত না হলেও ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ দেওয়া হতে পারে।

এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প অনুমতি দিলে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আওতাধীন অঞ্চলে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ওই অঞ্চল থেকে ফিরে যাওয়া কিছু সেনার পরিবর্তে নতুন সেনা পাঠানো নাও হতে পারে।

হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের বক্তব্য

সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, যেসব স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, সেগুলো নিয়ে প্রশাসন মন্তব্য করে না।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প ‘সব বিকল্প খোলা রাখছেন’।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে মিশনের সাফল্য নিশ্চিত করতে সামরিক বিভাগ বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা তৈরি করে। তবে এসব বক্তব্যে ট্রাম্প এমওএবি ব্যবহারের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন কি না কিংবা ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনায় নির্দিষ্ট কোনো হামলার নির্দেশ দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

মনস্তাত্ত্বিক অভিযানের কথা মাথায় রেখে তৈরি

ইরাক যুদ্ধের সময় এমওএবি তৈরি করা হয়। এটি এমন একটি বায়ুবিস্ফোরণ অস্ত্র, যা মাটিতে আঘাত করার আগেই বিস্ফোরিত হয়। এর ফলে চারদিকে ব্যাপক বিস্ফোরণতরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৩ সালে পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে সামরিক কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, অস্ত্রটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক অভিযানের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল। এর বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ইরাকি সেনাদের আতঙ্কিত করা, আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা যুদ্ধ থেকে বিরত রাখার পরিকল্পনা ছিল।

প্রাথমিকভাবে বিপুলসংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি মাটির ওপরের শক্তিশালী বাংকার লক্ষ্য করে বোমাটি ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছিল। পরে গুহা ও সুড়ঙ্গের মতো অপেক্ষাকৃত নরম ভূস্তরের নিচে থাকা স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৭ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অবস্থানে এমওএবি ব্যবহারের অনুমোদন দেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এই বোমা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

আফগান সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে আইএস যোদ্ধারা ওই এলাকায় সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত। হামলার পর আফগান কর্মকর্তারা জানান, এতে আইএসের ৩৬ যোদ্ধা নিহত হন। মার্কিন ও আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, বিস্ফোরণে তিনটি সুড়ঙ্গ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়েছিল। সে সময় কোনো বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৫ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit