বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিক্ষার্থী নিহত, আহত ১৯ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: মন্ত্রী মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু কাল ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন সেতু চালু, নিষেধাজ্ঞা এড়াবেন কিম? বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার রাজধানীসহ সারাদেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর ‘ছিনতাই’ সন্দেহে দিল্লিগামী ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, এরপর যা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর গবেষণা-উদ্ভাবন মেলা আয়োজনের উদ্যোগ

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জাপানি সাংবাদিককে গ্রেফতার করল রাশিয়া

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জাপানের এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে রাশিয়া। তার বিরুদ্ধে রুশ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য জাপানের জন্য সংগ্রহ করার অভিযোগ এনেছে মস্কো।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিবিসির খবরে জানানো হয়, হোক্কাইডো শিমবুন পত্রিকার ওই সাংবাদিকের নাম ইউকি ইমাই। রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলীয় সাখালিন এলাকায় তাকে আটক করা হয়েছে। এক দিন পরেই রাশিয়া ছাড়ার কথা ছিল তার।

গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিরোধপূর্ণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই জাপানি সাংবাদিককে আটকের ঘটনা ঘটল। দ্বীপপুঞ্জটি রাশিয়া ও জাপান—উভয় দেশই নিজেদের বলে দাবি করে।

আটকের বিষয়ে জাপান সরকার বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ ‘ঘটনার সত্যতা যাচাই করছে’। যাচাই শেষে এ বিষয়ে ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমাই ‘জাপানের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে’ কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। কুরিল দ্বীপপুঞ্জে বিশেষ সামরিক অভিযানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মাঝখানে কুরিল দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত। দ্বীপপুঞ্জটি রাশিয়ার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এর দক্ষিণের চারটি দ্বীপের মালিকানা দাবি করে জাপান। দেশটি দ্বীপগুলোকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল’ বলে অভিহিত করে।

রাশিয়ার আরেক সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমাইকে মস্কোয় নেওয়া হয়েছে। বিচার শুরুর আগে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখা হবে। রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ‘রাশিয়ায় বিদেশি সাংবাদিকের মর্যাদা নিয়ে কাজ করা সংবাদদাতাদের ব্যবহার করে আমাদের দেশের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহের টোকিওর প্রচেষ্টা দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।’ তবে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্য কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

ইমাইয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এবং সাখালিনের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে লেখা রয়েছে। তার আটকের বিষয়ে হোক্কাইডো শিমবুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে সেখানে সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া ঘটনাটি নিয়ে পত্রিকাটি আর কোনো মন্তব্য করেনি।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে কয়েক দশক ধরে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এই ভূখণ্ডগত বিরোধ।

আগস্টে পুতিনের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরের সমালোচনা করেছিলেন তাকাইচি। দ্বীপগুলোতে এটিই ছিল পুতিনের প্রথম সফর। তাকাইচি বলেছিলেন, এ সফর ‘জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে’ এবং ‘উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল নিয়ে জাপানের ধারাবাহিক অবস্থানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’।

তবে মস্কো তার সমালোচনাকে ‘রাজনৈতিকভাবে অনুপযুক্ত’ ও ‘আইনগতভাবে ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

বছরের পর বছর ধরে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। এ ছাড়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাপান। ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও শীতলতা রয়ে গেছে। গত সপ্তাহেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জাপানি প্রেসিডেন্টকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে টোকিওর ক্ষোভের কারণ হয়েছে মস্কো।

আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়ার ওয়ান্টেড তালিকায় রাখা হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি।

এর আগে ২০২৩ সালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচকে আটক করে রাশিয়া। পরে তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মার্কিন নাগরিক গার্শকোভিচকে ২০২৪ সালে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় মুক্তি দেওয়া হয়। স্নায়ুযুদ্ধের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বন্দিবিনিময়গুলোর একটি।

২০১৯ সালেও সামরিক গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার সন্দেহে কিয়োদো নিউজের এক জাপানি সাংবাদিককে আটক করেছিল মস্কো। ভ্লাদিভস্তক থেকে আটক ওই সাংবাদিককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ১:৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit