স্পোর্টস ডেস্ক : আফগানিস্তান তীব্র লড়াই গড়ে তুলেছিল। দিনের তৃতীয় ওভারে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের ২১১ বলে ৮০ রানের জুটি ভেঙে দিলেন এবাদত হোসেন। পরের ওভারে নতুন দিনে দ্বিতীয়বারের মতো বল হাতে নিয়ে আফগানদের চমকে দিলেন হাসান মাহমুদ।
৮৩তম ওভারে প্রথম দুটি বলে ডট দিলেন। তৃতীয় বলে সময়মতো ব্যাট চালাতে পারেননি ইসমত আলম। বল গিয়ে অফস্টাম্পে আঘাত করে উপড়ে ফেলল।
দ্বিতীয় নতুন বল পেয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভোলেননি হাসান। নতুন ব্যাটার কাইস আহমেদ ব্যাট না চালিয়ে পারেননি। তার ব্যাট ছুঁয়ে বল নিচে নামছিল। ডানদিকে হাত বাড়িয়ে মাটির কয়েক ইঞ্চি উপরে গ্লাভসবন্দি করলেন বল।
হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাসানের সামনে। বাংলাদেশি পেসার ক্যাচের আবেদন করেন। বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নেন। আল্ট্রাএজে বল ব্যাট অতিক্রম করার সময় স্পাইক ধরা পড়েনি। পরবর্তী পদক্ষেপে বল ট্র্যাকিংয়ে টিভি আম্পায়ার এলবিডব্লিউর রিভিউ দেখেন এবং যাতে দেখা গেছে প্যাডে না লাগলে অফস্টাম্পে বল আঘাত করত, তাই আউটের সিদ্ধান্ত জানান।
তাতে বাংলাদেশের প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েন হাসান। বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে তিনি পরপর তিন বলে উইকেট পেলেন।
২০০৩ সালে অলক কাপালি পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশাওয়ারে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তার ১০ বছর পর চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন সোহাগ গাজী। দুজনেই ছিলেন স্পিনার, আর এবার প্রথম কোনো পেসারের কাছ থেকে হ্যাটট্রিক দেখল বাংলাদেশ।
ওখানেই শেষ নয়। হ্যাটট্রিক নেওয়ার পর এক ওভার বিরতি দিয়ে পরের ওভারে পঞ্চম উইকেট নেন হাসান। ইয়ামিন আহমদজাইকে লিটনের ক্যাচ বানান তিনি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেও উইকেট বাঁচাতে পারেননি আফগান ব্যাটার। তাতে চতুর্থবার ফাইফার পেলেন হাসান।
কিউএনবি/আয়শা/১১ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪৪