শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ২৬ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৬ হাজার সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের আটক রাখার জন্য অস্থায়ী কেন্দ্রও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা। ককরোচ জনতা পার্টি ও সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন আইসার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি জানানো হবে। আয়োজকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন তাঁরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য জমায়েত ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৬ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য সংবাদমাধ্যমের খবরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাধিক কোম্পানি পাঠানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মোতায়েনের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড স্থাপন, তল্লাশি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অ্যাপভিত্তিক গাড়ি পরিষেবা নিয়েও বিধিনিষেধের খবর এসেছে। এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে রাজধানীতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই শনিবারের কর্মসূচিতে আরও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন বলে আয়োজকেরা আশা করছেন।

বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং নাগরিকের ভোটাধিকার ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির এই কর্মসূচি ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার সক্ষমতা তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

কিউএনবি/অনিমা/০৯ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৯:৫২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit