বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জেতেন। তিনি ছিলেন প্রতিযোগিতাটির ৪৪তম বিজয়ী এবং ভারতের দ্বিতীয় মিস ওয়ার্ল্ড। কিন্তু তার গল্প মুকুটে থেমে থাকেনি। মডেলিং থেকে অভিনয়ে এসে তিনি বলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল প্রোফাইলেও রয়েছে তার মডেলিং ক্যারিয়ার।
এ সময়ে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে ভারতের হয়ে আরও অনেক প্রতিযোগী এসেছেন, কেউ জিতেছেন, আবার কেউ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতিও পেয়েছেন। কিন্তু ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম উঠলেই যেন আলোচনা থেমে যায় একটু ভিন্ন জায়গায়। সম্প্রতি প্যারিস ফ্যাশন উইকই তার নতুন উদাহরণ।
গত মাসের শেষে লরিয়াল প্যারিসের ‘লে দেফিলে’তে কালো ভেলভেটের নাটকীয় পোশাক, ক্রিস্টালখচিত কেপ, মাথায় টায়ারা আর নতুন বারগান্ডি-লাল চুলে র্যাম্পে হাঁটেন ঐশ্বরিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন কেন্ডাল জেনার, সেলিন দিওঁ, ভায়োলা ডেভিস, ইভা লঙ্গোরিয়া, সিমোন অ্যাশলিসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখ। সবাইকে ছাপিয়ে চোখ আটকে যায় ঐশ্বরিয়ার কাছে।
প্রায়ই সময় প্রশ্ন উঠে— নতুন প্রজন্মের অসংখ্য তারকা, মডেল ও সুন্দরীর ভিড়েও কেন ঐশ্বরিয়া এখনো এতটা আলোচনায়? বিষয়টি এত সহজ ছিল না। ঐশ্বরিয়ার পরিচয় শুধু ‘সাবেক বিশ্বসুন্দরী’ নয়। তিনি একই সঙ্গে অভিনেত্রী, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সংস্কৃতির পরিচিত মুখ। ঐশ্বরিয়ার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে— তার স্টাইলের পরিবর্তন।
অভিনেত্রী একই ধরনের সৌন্দর্যচর্চায় আটকে থাকেননি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার উপস্থিতি বড় উদাহরণ। ২০০২ সালে হলুদ শাড়ি দিয়ে কানযাত্রা শুরু করার পর কখনো ভারতীয় পোশাক, কখনো হলিউড-ধাঁচের গাউন, আবার কখনো পরীক্ষামূলক ফ্যাশনে দেখা গেছে তাকে।
একজন সুন্দরীকে ক্যামেরার সামনে সুন্দর দেখানো যায়। কিন্তু কয়েক দশক ধরে মানুষকে থামিয়ে তাকাতে বাধ্য করা আলাদা বিষয়। ঐশ্বরিয়ার ক্ষেত্রে তার চেহারা, চোখ, অভিব্যক্তি, পোশাক বহন করার ধরন এবং ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি স্বতন্ত্র ইমেজ। ২০২৬ সালের প্যারিস ফ্যাশন উইকেও সেটিই দেখা গেছে। র্যাম্পে তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্বের বড় বড় তারকারা। কিন্তু তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আলাদা করে আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রতি বছরই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নতুন মুখ আসেন। তাদের কেউ মডেলিংয়ে যান, কেউ অভিনয়ে, আবার কেউ সামাজিক কাজে যুক্ত হন। ফলে একজন মিস ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আরেকজনকে সরাসরি তুলনা করা সহজ নয়। এখানেই হয়তো ঐশ্বরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার একটি উত্তর পাওয়া যায়— তিনি শুধু কোনো একটি প্রতিযোগিতার বিজয়ী নন; বরং নিজের পরিচয়কে সময়ের সঙ্গে নতুন করে তৈরি করেছেন।
মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট থেকে বলিউড, সেখান থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসব, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং প্যারিসের ফ্যাশন র্যাম্প একটি পরিচয়কে তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সৌন্দর্য অনেকটাই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। ঐশ্বরিয়া কেবল তার সৌন্দর্য দিয়ে টিকে থাকেননি। তিনি নিজেকে চিনিয়েছেন আর প্রমাণ দিয়েছেন তার ব্যক্তিত্বে বারবার।
শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ভক্ত-অনুরাগীদের সময় দেন। তার আইকনিক লুকে ক্যামেরার দিকে হাসি দেন। সময় পার হয়ে গেছে আর তার সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করেও আলাদা সত্ত্বা তৈরি করেছেন ঐশ্বরিয়া। তাই সে ১৯৯৪ থেকে শুরু করে আজও তার ভক্ত-অনুরাগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
কিউএনবি/আয়শা/০৪ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৫