রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

ছয় মাস যুদ্ধের ময়দানে, এবার থাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ছয় মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে মোতায়েন থাকার পর থাইল্যান্ডের ফুকেট বন্দরে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।

দীর্ঘ সময় মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনের পর এটি রণতরীটির প্রথম বন্দর সফর।

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ওই অঞ্চলে ইরানি জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরে সহায়তা করেছে।

রণতরীটির সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপে মোট প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য রয়েছেন। ফুকেটে অবস্থানকালে তারা পাঁচ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন নাবিককে রণতরী থেকে নেমে ফুকেটের তীরে যেতে দেখা গেছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যাত্রা শুরুর পর ফুকেটই এই স্ট্রাইক গ্রুপের প্রথম বন্দর সফর। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ও যুদ্ধ-সম্পৃক্ত দায়িত্ব পালনের পর এই বিরতি নৌসদস্যদের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ মোতায়েন
ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার সামরিক প্রস্তুতিতে থাকতে হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে এসব রণতরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌসদস্যদের জীবনযাপন নিয়ে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগও উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রণতরীগুলোতে খাবারের মান খারাপ হয়েছে, অনেক নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং এমনকি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে।

যুদ্ধকালীন দীর্ঘ মোতায়েন, টানা সামরিক দায়িত্ব এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে নৌসদস্যদের ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, এসব অভিযোগ তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে কেন মার্কিন রণতরী?
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চুক্তিভিত্তিক মিত্র থাইল্যান্ড। দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার।

এর আগে চলতি বছর আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও থাইল্যান্ডে নোঙর করেছিল। ফলে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের ফুকেট সফরকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ ছয় মাসের যুদ্ধকালীন দায়িত্ব শেষে ফুকেটে মার্কিন নৌসদস্যদের এই পাঁচ দিনের বিরতি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা এখনও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সূত্র: আল-জাজিরা

কিউএনবি/অনিমা/০৪ অক্টোবর ২০২৬,/বিকাল ৪:১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit